আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগেই নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট চলাকালীন রাজ্যের বহুতল আবাসনগুলিতে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটাররাই থাকতে পারবেন। কোনও বহিরাগত, এমনকী আত্মীয়-স্বজনের থাকাতেও জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। এই নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
এবার ভোট চলাকালীন যেসব আবাসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে, সেখানে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের নথিভুক্ত ভোটাররাই থাকতে পারবেন। কোনও বহিরাগত—এমনকি আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, ভোটকেন্দ্রগুলিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ। বহিরাগতদের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশকে প্রতিটি আবাসনের গেস্ট রেজিস্টার খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। একাংশের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের স্বার্থে এমন কড়াকড়ি প্রয়োজন। অন্যদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে অযথা হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না তো? তাঁদের যুক্তি, বাইরে থেকে আসা আত্মীয়রা কোথায় থাকবেন, এমনকি যে সব পরিবারে সন্তানরা বাইরে থেকে ফিরেছেন তারা কোথায় থাকবেন—সেই প্রশ্নেরও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি প্রশাসনের তরফে।
প্রসঙ্গত, ভোটের ৯৬ ঘণ্টা আগে থেকেই রাজ্যজুড়ে বন্ধ রাখা হয়েছে মদের দোকান। এমনকি যেসব এলাকায় ২৩ তারিখ ভোট নেই, সেখানেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—যদিও কমিশনের দাবি, এটি আবগারি দপ্তরের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি মোটরবাইক চলাচলেও জারি হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়াসে কমিশন মরিয়া হলেও, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমানা স্পর্শ করছে। এখন দেখার, এই ‘লৌহবর্ম’ কতটা কার্যকর হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের ভোট কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।




