রাজ্য ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শেষে শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মোট যোগ্য ভোটার ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। নাম বাদ পড়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের। তালিকা প্রকাশের পরই নির্বাচন কমিশনের গলদ নিয়ে ফের সরব তৃণমূল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে রাজ্যের শাসক শিবির সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ফের বৈধ নাগরিকের নাম বাদ প্রসঙ্গে লিখেছে, ‘নির্বাচন কমিশন আর কত নিচে নামবে? খসড়ার তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকাতেও কারচুপি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে এই বিজেপির দালালরা!’
তাদের অভিযোগ, ‘নৈহাটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার এবং তাঁর মা আরতী সরকারের নাম ভোটার তালিকায় ‘ডিলিট’ চিহ্নিত করেছে কমিশন। কোন অজুহাতে? বিজেপির বেঁধে দেওয়া কোটির গণ্ডি পার করতে কি একের পর এক ভোটারের নাম এভাবে বাদ দেবে ‘দালাল’ কমিশন? নাকি আবারও BLO-দের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে?’প্রসঙ্গত, এর আগেও জীবিত ভোটারদের মৃত দেখানো হয়েছে খসরা ভোটার তালিকায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সভায় সেই জীবিত অথচ মৃত ভোটারদের হাজির করে কমিশনকে তীব্র নিশানা করেন। শনিবার চূড়ান্ত তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশের পরও সেই একই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি রাজ্যের শাসক দলের।

প্রসঙ্গত, শনিবার কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৯১, মহিলা ভোটার ৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৪০২ জন। ফর্ম ৭ অনুযায়ী বাদ পড়েছেন ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ ভোটার। এছাড়া ফর্ম ৬ ও ৬এ-তে নতুন ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬। ফর্ম ৮ অনুযায়ী স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন। এছাড়া বিচারাধীন ভোটার অর্থাৎ তথ্যে অসংগতির জেরে যাঁদের নাম এখনও বিবেচনার আওতায়, সেই সংখ্যা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৩৭৫।




