Header AD

ভারতের জন্য হরমুজে নিষেধাজ্ঞা তুলল ইরান, মুম্বইয়ে পৌঁছল তেলবাহী জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে ভারতের জন্য। কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের রাস টানুরা থেকে মুম্বইয়ে তেলবাহী জাহাজ শেন লং এসে পৌঁছল। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই প্রথম সৌদি আরব থেকে তেল ভর্তি কোনও জাহাজ ভারতে এল। সূত্রের খবর, ‘পুষ্পক’ এবং পরিমল’ নামে দুটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ভারতের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। ইরানের হামলার আশঙ্কায় অনেক দেশ তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে। ইরানও অধিকাংশ দেশের জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শুরুতে শুধুমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় ভারতের নামও যোগ হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশের জাহাজের উপর এখনও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড ফোর্স।

এই সিদ্ধান্তের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে দু’দেশের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছিল বলেও জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি রণতরীতে মার্কিন হামলার পর মানবিক সহায়তা দেয় ভারত। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করে ভারত।

এই আলোচনার ফলেই আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার অনুমতি মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।