হাওড়ার আমতা এলাকায় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার জেরে মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ওই কিশোরী আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার লাল্টু মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরী হাওড়ার পেঁড়ো থানার মাতোর বর্গক্ষেত্র পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার মা অভিযুক্ত লাল্টু মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাতে মায়ের সঙ্গে আমতায় মামাবাড়ির কাছে একটি কালীপুজোর অনুষ্ঠানে গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেখানেই উপস্থিত ছিল অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারও। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মধ্যেই কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করে লাল্টু। পরে কিশোরী শৌচালয়ে গেলে অভিযুক্ত সেখানে ঢুকে পড়ে এবং তাকে শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কিশোরী।
বুধবার সকালে বাড়ির ভিতর থেকেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পেঁড়ো থানার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। দেহ উদ্ধারে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে তাড়া করার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। এরপর পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
বুধবার রাতেই মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে পেঁড়ো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার লাল্টু মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





