পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে প্রথম সাক্ষাত- আর সেখানেই বাংলাকে ভালোবাসার কথা বললেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে । মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে এটিই ছিল বাংলায় ভালোভাবে কাজ করার এক ধরনের বার্তা। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ লোকভবনে পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন আর. এন. রবি (RN Ravi)। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ হয়।
ইতিপূর্বে তিন বছর চার মাস দায়িত্ব সামলানোর পর গত ৫ মার্চ আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রথমে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তাঁকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, নাগাল্যান্ড ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন সেখানকার অ-বিজেপি সরকারগুলির সঙ্গে তাঁর একাধিকবার মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা সময় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে রাজ্যপাল থ্রোন রুম থেকে বেরিয়ে ভিজিটার্স রুমে চলে যান। তবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী তখন তাঁর সঙ্গে যাননি। কিছুক্ষণ পরে লোকভবন থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, রাজ্যপাল চা-চক্রের জন্য ভিজিটার্স রুমে অপেক্ষা করছেন। এরপর করিডরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সস্ত্রীক রাজ্যপাল আর. এন. রবির দেখা হয়। তাঁরা তখন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আসছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং শুভেচ্ছা জানান।
সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার ঝলকানির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কথার মাধ্যমেই নতুন রাজ্যপালকে বাংলার মানুষের মন জয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।





