রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। প্রথমেই রাতারাতি বদলি করা হয় মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে, যা অনেকের মতে একেবারেই নজিরবিহীন পদক্ষেপ। এরপর সোমবার সকালে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও একাধিক রদবদলের ঘোষণা করে কমিশন। বদল করা হয়েছে কলকাতার নগরপাল এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও।
নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার পরপরই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের (Commissioner of Police) পদ থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও আইজি—প্রায় সব শীর্ষপদেই বদল করা হয়েছে। কমিশনের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে (Supratim Sarkar) সরিয়ে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় কুমার নন্দকে (Ajay kumar Nand)। রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের (Piyush Pandey)পরিবর্তে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে (Siddh Nath Gupta)।

এছাড়া এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে বিনীত গোয়েলের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অজয় মুকুন্দ রানাডে (Ajay Mukund Ranade)। অন্যদিকে ডিজি (কারা) পদে আনা হয়েছে নটরাজন রমেশ বাবুকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যেই দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি যাঁদের পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁরা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
ভোট ঘোষণার পর এত দ্রুত এবং ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অস্বাভাবিক রকম ‘অতিসক্রিয়’ ভূমিকা নিচ্ছে এবং এর নেপথ্যে বিজেপির প্রভাব থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ও ১০ তারিখ রাজ্যের ভোট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এসেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই সময় পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দেন বলে জানা যায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
এরপর রবিবার ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত রদবদল করা হয়। বিশেষ করে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবর্তন ঘটানো—রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।





