Header AD

রবিবারের ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে তছনছ দার্জিলিং ও সিকিম! গাছ ভেঙে মৃত্যু ১, জখম বহু

রবিবার বিকেল থেকে প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টির দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দার্জিলিং ও সিকিমের জনজীবন। আকস্মিক এই দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার পর্যটক। বহু এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি ও গাড়ি। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত সিকিমে অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।

সিকিমের রাকডং এলাকায় বজ্রপাতের সময় একটি গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম কলা দেবী ছেত্রী (৫৫)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মাঝে আচমকা গাছ ভেঙে পড়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

ঝড়ের জেরে সিকিমের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। উদ্ধারকাজে নামে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। তবে প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকারের কারণে গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার বিকেলের পর থেকেই সিকিম ও দার্জিলিং জুড়ে শুরু হয় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। দার্জিলিং শহর ও আশপাশের এলাকা মুহূর্তে শিলার সাদা আস্তরণে ঢেকে যায়, অনেকটা বরফ পড়ার মতো দৃশ্য তৈরি হয়। একই পরিস্থিতি তৈরি হয় সিকিমের বহু এলাকায়।

ঝড়ের তাণ্ডবে বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হোটেলে ফেরার পথে বহু পর্যটক রাস্তায় আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, তীব্র শিলাবৃষ্টি এবং কান ফাটানো বজ্রপাত মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। ছোট্টা সিংতামের লেপচা গাঁও এলাকায় একটি বড় গাছ গাড়ির উপর ভেঙে পড়ে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও গোলাইয়ের কাছে বজ্রপাতে একটি বিশাল পাইন গাছ ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিকিম প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।