রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার অনেক আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টহলদারি। এবার জানা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে মোতায়েন করা হবে প্রায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)ভোটপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত জওয়ানদের জন্য বডি ক্যামেরা এবং নাকা চেকিংয়ের লাইভ স্ট্রিমিং।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে- ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। প্রতিটি দফায় প্রায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। অর্থাৎ, প্রতি দফায় প্রায় আড়াই লক্ষ জওয়ান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। কোথায় কত বাহিনী প্রয়োজন, কোন বুথ স্পর্শকাতর, এবং কোথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন—এসব নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। জেলা পর্যায়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে ফোর্স মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা শুধু ভোটকেন্দ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বুথের বাইরে কোনও অশান্তি হলে বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠলেও তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এমনকি গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল বা হিংসার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন।
এর পাশাপাশি, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চিহ্নিত ‘স্পর্শকাতর’এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী রুট মার্চ চালানো হবে। ইতিমধ্যেই কলকাতায় প্রায় ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তাদের টহল শুরু হয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের জন্য নির্দিষ্ট রুট ম্যাপ তৈরি করে বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার একাধিক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।





