আর জি কর হাসপাতালে (RG Kar Medical College & Hospital) ভর্তি ছেলেকে দেখতে স্ত্রী ও অন্য সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকালে হাসপাতালে (Hospital) এসেছিলেন দমদমের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত হল। হাসপাতালের লিফটে আটকে গিয়ে মৃত্যু হল ওই ব্যক্তির। ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও ধোঁয়াশায়। ঘটনার সময় লিফট অপারেটরের উপস্থিতি নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এদিকে এই ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা মেনে নিলেন তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ। পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, দমদমের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ছেলে আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই ছেলেকে দেখতে শুক্রবার সকালে স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় হঠাৎই তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে লিফটটি আটকে পড়ে। উপরে ওঠার বদলে লিফট নিচের দিকে নেমে আসে। অভিযোগ, প্রবল ঝাঁকুনির পর লিফ্ট নীচে পড়ে যায়। দীর্ঘ ক্ষণ দরজা খোলা যায়নি। পরিবারের লোকজনের আকুতিতেও কেউ কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। দেড় থেকে দুঘণ্টা আটকে থাকে। পরে লিফট খুলে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তখন অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর বিক্ষোভে ফেটে প়ড়েন তাঁর পরিজনেরা। হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান অন্যান্য রোগীর আত্মীয়েরাও। সূত্রের খবর, মৃতের স্ত্রী এবং সন্তান আরজি করেই চিকিৎসাধীন। তবে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে টালা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। এখনও পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অন্যান্য রোগীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, অধিকাংশ সময়ই লিফটে কোনও অপারেটর থাকেন না। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই লিফট ব্যবহার করতে হয় সাধারণ মানুষকে। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান তৃণমূলের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা মেনে নিলেন তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ। তিনি ওই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিরও সদস্য।অতীন বলেন, ‘‘সোমবার রোগী কল্যাণ সমিতির জরুরি বৈঠক ডাকতে বলব। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। দেখতে হবে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য চেষ্টা করতে হবে। সকলকে তৎপর হতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যর্থতায় এই ঘটনা, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে আরজি করে লিফ্ট বিভ্রাটকাণ্ডে বেশ কয়েক জনকে থানায় তলব করা হয়েছে। লিফ্টম্যানকেও ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া, নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালে আর জি কর হাসপাতালের এক তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা রাজ্যে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার শিরোনামে উঠে এল কলকাতার এই প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল।





