যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Crisis) জেরে সারা বিশ্বের মতো ভারতেও এলপিজি সংকট চরমে। দিন কয়েক আগে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দেশবাসীকে আশ্বাস দিলেও তা যে আদৌ এই সঙ্কটের সমাধান সূত্র দিতে পারেনি তা অচিরেই প্রমাণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার আসরে নামতে হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi)। বিরোধীদের লাগাতার চাপে কার্যত বাধ্য হয়ে জ্বালানি সংকট নিয়ে এদিন সংসদে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শোন গেল তাঁর মুখে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা গ্যাসের পর এবার দেশের বিদ্যুতের সংকট দেখে দেবে না তো!
গ্যাসের সংকটে (LPG Crisis) মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে ইতিমধ্যেই টান পড়েছে। রান্নার গ্যাসের অপ্রতুলতা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গায় এলপিজি সহজে পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাড়ি থেকে শুরু করে রেস্তরাঁ—সব জায়গাতেই হেঁশেলে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাধ্য হয়ে মানুষ এখন ভরসা রাখছেন ইন্ডাকশন বা মাইক্রোওভেনের ওপর, যার ফলে কিছুটা হলেও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এদিকে গ্রীষ্মকাল একেবারে দোরগোড়ায়। তীব্র গরমে বাড়বে পাখা, কুলার ও এসির ব্যবহার। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বাড়বে—এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। উপরন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলল।
চলতি উদ্বেগের মাঝেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) জানান, “সামনে গ্রীষ্মকাল। এই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিন ক্ষেত্র আরও বাড়িয়েছে সরকার।” এরপরই প্রশ্ন জাগে তাহলে কি এবার দেশে বিদ্যুতের যোগানেও ঘাটতি দেখে দেবে?
যদিও সংকট মোকাবিলায় সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশের ভেতরে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে, পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কয়লা, এলপিজি ও এলএনজি আমদানির উৎসও বাড়ানো হয়েছে—বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। সংকটের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে সরকার—এমনটাই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর।
কিন্তু এই বার্তা কি সত্যিই সংকট মোকাবিলার জন্য, নাকি এরই মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও সতর্কবার্তা?





