সোমবার মাঝরাতে বাংলায় এসআইআরের (SIRinBengal) সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হল। প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের মধ্যে ২৯ লক্ষের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে কমিশনের (Election Comission) দাবি। তবে এই তালিকায় কতজনের নাম রয়েছে আর কতজনের নাম বাদ পড়েছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করেছে দাবি করলেও সেই তালিকা এখনও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না বলেই খবর।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। কিন্তু কত নামের নিষ্পত্তি হয়েছে? কত নাম তালিকায় বাদ পড়ল, সেই বিষয়ে কোনও বার্তাই কমিশনের তরফে জানানো হয়নি। বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সেই বিষয়ক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এদিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো ঠিক জানি না। আপনারা সেটা ওয়েবসাইটে দেখে নেবেন। যতটা আমরা ই-সাইন করা তালিকা পাব ততটাই আমরা আপলোড করতে পারব। আমাদের কাজ শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা। জুডিশিয়াল অফিসারদের থেকে ঠিক যেমন ভাবে আসবে ঠিক তেমন ভাবে আমরা প্রকাশ করব।‘
বাংলায় এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায় প্রায় ৬৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়াও আরও ৬০ লক্ষের নাম ‘বিচারাধীন’ বলে জানানো হয়। শেষপর্যন্ত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ২৯ লক্ষ মানুষের নাম প্রকাশের কথা কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন ২৯ লাখ নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। তবে এদিন রাতে কমিশন কেবল তালিকা প্রকাশের বিষয়টিই জানিয়েছে। বুথ অনুসারে প্রাথমিকভাবে দুটি ভাগে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আলাদা তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। বুথভিত্তিক অতিরিক্ত ভোটার তালিকা ডাউনলোড করতে হবে। এরপরই ভোটাররা তাঁদের নাম আছে কি না জানতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে এই কথাই জানা গিয়েছে।
তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে কেন বিলম্ব হল, সে বিষয়ে কমিশন সূত্রের খবর, ‘বিচারাধীন’ নামগুলি নিষ্পত্তি করার পরে বিচারকরা অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কমিশনের কাছে ই-সাইন করে পাঠাননি। তাই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় সেই সব নাম তোলা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি ঠিক করে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট এবং ডিলিশনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সিইও-র কথায়, ‘৭০৫ জন বিচারক অর্থাৎ জুডিশিয়াল অফিসার গোটা প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন। তাঁরা তালিকাগুলি ই-সাইন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোর পরে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মনোজের ব্যাখ্যা, ‘তালিকা তৈরি করতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলি পাওয়ার পরে তা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।’





