লড়াইটা কৌরবের সঙ্গে পাণ্ডবের। আমরা পাণ্ডব ওরা কৌরব। পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াইকে কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের লড়াই বলে অভিহিত করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশের ফের লক ডাউনের চক্রান্ত করছে বলে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ছাব্বিশের নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝোড়ো প্রচারে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা করেছেন তিনি। সেখান থেকেই জ্বালানি সমস্যা নিয়ে বিজেপিকে একহাত নিলেন মমতা (Mamata Banerjee)। ফের লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বললেন, “২৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না! গ্যাস ফুরিয়ে গেলে মানুষ কী করবে? আবার তো শুনছি অ্যালার্টের কথা ভাবছে, বলছে লকডাউন করবে। লকডাউন করে সবাইকে আটকে রাখবে। নোটবন্দি করে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। ওদের আমি বিশ্বাস করি না। তবে কোভিডে যদি লড়াই করতে পারি, এবারও পারব।”
এদিনের সভা থেকে ফের এসআইআর প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ফুঁসে ওঠেন মমতা। বলেন, “তিনদিন আগে নাকি তালিকা প্রকাশিত হল। এখনও কেন সব জায়গায় লিস্ট টাঙানো হল না? উত্তর দিন।” তিনি আরও বলেন, “যদি বিচারাধীন ৪০ শতাংশের নামও ওঠে তালিকায়, সেটা আমাদের ক্রেডিট। রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি। কোথায় Adjudication লিস্ট। অবিলম্বে তালিকা প্রকাশ করুন। ” মঞ্চ থেকেই কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতার নির্দেশ, “আমাদের সংগঠকদের বলব, যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের থেকে যাবতীয় নথি নেবেন। বিনা পয়সায় উকিলের ব্যবস্থা করে ট্রাইবুনালে পাঠাবেন। যাতে কারও নাম বাদ না যায়।”
পাশাপাশি ভোটের মুখে রাজ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব সহ একাধিক আধিকারিক, শীর্ষস্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের বদলি নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন তিনি। সভা থেকে গর্জে উঠে মমতা বলেন, “BJP কোনও আইন মানছে না। বিজেপির পার্টি অফিস থেকে আধিকারিক বদলের চক্রান্ত হয়েছে। ওরা মধ্যরাতে তাণ্ডবকারী দল।”
এছাড়া এদিনের সভা থেকে আলুচাষীদের সতর্ক করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ওরা আলুচাষীদের নিয়ে রাজনীতি করছে। কোনও মিথ্যা কথায় পা দেবেন না। বিজেপি শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়। আপনারা রাজ্য সরকারের থেকে ক্ষতিপূরণ পাবেন।”





