পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের (Iran-USA war) একাধিক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৩টি মার্কিন ঘাঁটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেনাদের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতে অবস্থিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সেনাঘাঁটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলিকে (Middle east) আগেই সতর্ক করেছিল ইরান। তাদের বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সহায়তা করলে সেই দেশগুলিও হামলার মুখে পড়তে পারে। সেই প্রেক্ষিতে কাতার, বাহরিন এবং সৌদি আরবেও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবর সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দফতর, সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ রেডার ব্যবস্থাও নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহরিনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিটের সদর দফতর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে পেন্টাগন। তাদের দাবি, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি অক্ষত রয়েছে এবং ইরানের দাবি ভিত্তিহীন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং আরও সেনা মোতায়েন করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের মতে, তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে।
এই পরস্পরবিরোধী দাবি ও পাল্টা দাবির জেরে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।





