পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের (Middle East Crisis) আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের নৌবাহিনীর শীর্ষকর্তা আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবরে। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে এক হামলায় নিহত হয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নৌবাহিনীর প্রধান তাংসিরি। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইরান বা ইজরায়েল কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি ঠিক কারা চালিয়েছে—ইজরায়েল না আমেরিকা—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র এই খবর অস্বীকারও করেনি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে (Straight of Hormuz) কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ইরান, যার দায়িত্বে ছিলেন তাংসিরি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ইরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে অনুমতি দিলেও, অধিকাংশ দেশের জন্য এই প্রণালীতে বিধিনিষেধ জারি করেছিল, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানগামী একটি জাহাজকেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তাংসিরির মৃত্যু হলে তা ইরানের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ওপর হরমুজ প্রণালীর ‘অবরোধ’ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সম্প্রতি ইরানকে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, যেখানে এই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালীও বন্ধ করে দিতে পারে।
এই ঘটনার আগে ইজরায়েলের হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব সত্ত্বেও ইরান সহজে পিছু হটার সম্ভাবনা কম; বরং তারা আরও জোরালোভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। ফলে এই প্রণালীতে উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। সামগ্রিকভাবে, তাংসিরির মৃত্যুর খবর সত্যি হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলতি সংঘাতকে আরও জটিল ও বিস্ফোরক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





