“বাংলাকে টার্গেট করেছে কেন জানেন? ওরা চায় বাংলাটাকেই উঠিয়ে দিতে।” রঘুনাথপুরের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একই সঙ্গে সাপ্লিমেন্টরি তালিকা নিয়ে কমিশনকে (Election Commission Of India)ফের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি গর্জে ওঠেন, “মানুষকে ভয় পাচ্ছ কেন? কেন জেলায় জেলায় ট্রাইবুনাল হচ্ছে না?” পাশাপাশি বাংলার মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, “যদি বাংলাকে ওঠাতে না চান, তবে মনে রাখুন একটা ভোটও তৃণমূল ছাড়া আর কাউকে নয়।কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও বিকল্প নেই।”
এদিনের সভা থেকে SIRএর সাপ্লিমেন্টরি তালিকা প্রকাশ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন । তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘‘কেন ট্রাইবুনাল জেলায় জেলায় থাকবে না? কেন শুধু কলকাতায় আসতে হবে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মানুষদের।’’ তিনি বিজেপিকে ‘শয়তান’, ‘বজ্জাত’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ এসআইআরে বেছে বেছে মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পদবি দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের তো বিয়ের পর পদবি বদল হয়। মুসলিম মহিলাদের তো ঢেলে নাম বাদ দিয়েছে। আবার হিন্দুদেরও নাম বাদ গিয়েছে।”
এরপরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে (BJP Government) নিশানা করে মমতা বলেন, ওরা বাংলা রাজ্যটাই তুলে দিতে চায়। তাঁর কথায়‘‘ওরা বলে তৃণমূল চোর, এত বড় সাহস! তোরা তো ডাকাত। দেশ বেচে দেওয়ার ডাকাত।” সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, “আপনারা কৌরবদের চান না পাণ্ডবদের? তৃণমূল পাণ্ডব। বিজেপি কৌরবদের দল।” সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিজেপির টাকায় নিজেদের বেচবেন না। খবর আমরাও রাখি। মা বোনদের দায়িত্ব দেব। ইলেকশনের আগের দিন থেকে লক্ষ্য রাখবেন বাইরের গুন্ডারা আসছে কি না। আর পুলিশের ড্রেস পরে সেন্ট্রাল ফোর্স যদি ছাপ্পা দিতে আসে, রুখে দাঁড়াবেন। যদি ভোটমেশিন দখল করতে আসে, রুখে দাঁড়াবেন। কাউন্টিংয়ের দিন ফাইনাল রেজাল্ট বের না হওয়া পর্যন্ত থাকবেন। সঙ্গে কী নিয়ে যাবেন? পাখা নিয়ে যাবেন। বাড়িতে রুটি বেলা হয়। বেলন আছে। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে।”
শনিবার রঘুনাথপুরের ইনানপুর ফুটবল মাঠের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী জনসভায় বাংলার একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সব বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাবে।’’এর সঙ্গে জঙ্গল সুন্দরী প্রকল্পের কথাও ফের ঘোষণা করে তিনি বলেন, “৭২ হাজার কোটি বিনিয়োগে জঙ্গল সুন্দরী তৈরি হচ্ছে, দেড় লক্ষ কর্ম সংস্থান হবে। এছাড়াও ডানকুনি- রঘুনাথপুর ইকোনমিক করিডর তৈরি হচ্ছে।”





