ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে (Election 2026)। শনিবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah) তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিস্তারিত চার্জশিট পেশ করেন। সেই চার্জশিটে দুর্নীতি, সীমান্তে অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তনসহ একাধিক অভিযোগ তুলে শাসক দলকে আক্রমণ করা হয়।
তবে একইদিন বিকেলেই পালটা জবাব দেয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ‘মোটা ভাই, জবাব চাই’ শিরোনামে ১৫ পাতার একটি চার্জশিট প্রকাশ করে তারা। এই নথি পেশ করেন ব্রাত্য বসু (Bratya Basu), মহুয়া মৈত্র (Mohuya Mitra) এবং কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। তৃণমূলের দাবি, অমিত শাহর তোলা প্রতিটি অভিযোগের যুক্তিসঙ্গত জবাব তারা প্রস্তুত রেখেছে। সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেন, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। তিনি বলেন, এসআইআর (Special Intensive Revision) একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত, যার মাধ্যমে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল। ব্রাত্যর বক্তব্য, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নিরাপত্তার পরিস্থিতি প্রশ্নের মুখে। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মণিপুরের মতো রাজ্যের ঘটনা উল্লেখ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, এসব বিষয়ে বিজেপি নীরব থাকে, অথচ বাংলাকে আক্রমণ করে। পহেলগাও হামলা নিয়ে তোপ দাগেন মহুয়া। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নজরদারিতে কীভাবে জঙ্গিরা ঢুকে পর্যটকদের মারল, তার উত্তর মেলেনি বলে তৃণমূলের সাংসদের অভিযোগ। লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনাও অমিত শাহের ব্যর্থতা বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। নারী সুরক্ষা নিয়ে বিজেপির অভিযোগ ওড়াতে ncrb-র তথ্যকে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। নারীদের উপর অত্যাচার, ধর্ষণ, পণের জন্য অত্যাচারের মতো ঘটনায় দেশের মধ্যে প্রথম তিনে যে যে রাজ্য রয়েছে, সেগুলি বিজেপি শাসিত বলে তোপ তৃণমূলের। বাংলার আনা অপরাজিতা বিল পাশ করতে দিচ্ছে না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ, বাঙালি পরিয়ায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে অত্যাচার বা খুন করা হয়েছে, আবার সেই বাংলাতেই ভোট চাইতে আসছে বিজেপি। বিজেপি বাঙালি মনীষীদের লাগাতার অপমান করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের পালটা প্রশ্ন, দেশের বিভিন্ন বড় সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্তে ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয় না কেন? ব্রাত্য বলেন, শুধুমাত্র বাংলাকে টার্গেট করে ‘ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন’-এর অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সবমিলিয়ে, অমিত শাহর ৩৫ পাতার চার্জশিটের জবাবে তৃণমূলের ১৫ পাতার নথিই যথেষ্ট বলে মনে করছে শাসক দল। ভোটের আগে এই চার্জশিট-পালটা চার্জশিটের লড়াই যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে, তা বলাই যায়।





