Header AD

বিজেপি মাছ- মাংস খাওয়া বন্ধ করবে! উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের বার্তা দিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতার

CM meeting

“দেশটাকে বিজেপি যে ভাবে চালাচ্ছে, ২ মাসের মধ্যে দিল্লি ছেড়ে পালাতে হবে।“ পাশকুড়ায় (Pashkura election Campaign) রাজনৈতিক জনসভা থেকে বিজেপিকে এভাবেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের শাসক দল দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ এবং মিথ্যা প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাঁর দাবি, BJP মানুষের অধিকার খর্ব করছে এবং বিভাজনের রাজনীতি করছে। এরপর তাঁর বার্তা, ২ মাস পর আর এসব সহ্য করতে হবে না। মমতা বলেন, “দিল্লিতে যারা থাকবে না, তারা কাকে চমকাবে?” খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। মমতার বক্তব্য, বাংলার মানুষের খাওয়া-দাওয়ার ওপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, অথচ প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করা হচ্ছে না। বিজেপি’কে ‘বাংলার খাওয়া-পরা বন্ধ করার দল’ বলে অভিহিত করে মমতার তোপ , বাংলার খাবারের উপরে আপনাদের কীসের এত হ্যাংলামি আর নোংরামি! মাছ খাবে না, মাংস খাবে না, ডিম খাবে না। তা কি ওদের মাথা খাবে! মাছ-মাংস খেতে পারবেন না, যদি কেউ টাকা নিয়ে বিজেপি-কে ভোট দেন!”   

উন্নয়ন প্রসঙ্গে মমতা জানান, রাজ্যে একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরও হবে। তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর, ডানকুনি করিডোর, জগন্নাথ ধামসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও আশার কথা শোনান। ভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রার্থী ব্যক্তি নয়, মূল বিষয় হল সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার না থাকলে রাজ্যের বিভিন্ন সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে এবং বহু যুবক-যুবতীকে কাজ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। যুবসাথী প্রকল্পকে বিরোধীদের কটাক্ষ নিয়ে তাঁর দাবি, “যুবসাথী যুবকদের পকেট খরচ। কারও কাছে তাঁদের যাতে হাত পাততে না হয়, তাই টাকা। ওরা নগ্ন ভাষায় কথা বলে। আমরা সৌজন্যের ভাষায় কথা বলি। দেশে বেকারের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমিয়েছি। ২ কোটি ছেলেমেয়েক চাকরি দিয়েছি। আগামী দিন আরও দেব।“

নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রলোভন থেকে বাঁচার নিদানও দিয়েছেন মমতা। তাঁর সাবধানবাণী, “এক জনের হার মানে বিজেপি সব কেড়ে নেবে। ভোটের আগে দেয় ক্যাশ, তার পর দেয় গ্যাস। এক মাস জ্বলবে। তার পর গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। পেট্রলও পাবেন না।“ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের আগে প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।