Header AD

ভোটার তালিকায় অন্য রাজ্যের লোকের নাম!’ওরা বাংলাকে বধ করতে চায়’, অভিযোগ মমতার

cm chandrakona

অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। চন্দ্রকোনার সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, “এত লোকের নাম বাদ গিয়েছে। সেই নামগুলো এখনও তোলা হল না। কালকেও নির্বাচন কমিশনে ৩০ হাজার নাম জমা দিয়েছে। তারা বাংলার কেউ নয়।আর নতুন করে বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে নাম এনে ঢোকাচ্ছে। বাংলাতেও ট্রেনে করে নিয়ে এসে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা করছে।ওরা বাংলাকে বধ করতে চায়”। তাই দলের সর্বস্তরের কর্মীদের তো বটেই সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে নজর রাখতে বললেন তিনি।

বাংলার মানুষের ‘হয়রানি’ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আমার কষ্ট হচ্ছে। বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের জন্য।”একই সঙ্গে চন্দ্রকোণার সভায় তাঁর সংযোজন,“বিহারে যেভাবে ট্রেনে করে নিয়ে এসে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল, এখানেও খড়গপুর, আসানসোলে সেভাবে ভোট করাবে। আপনাদের ভোট দখল করবে।লক্ষ্য রাখুন কোথায় কী হচ্ছে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি বস্তা বস্তা কাগজ জমা পড়েছে। কালকেও নির্বাচন কমিশনে ৩০ হাজার নাম জমা দিয়েছে। তারা বাংলার কেউ নয়। কেন দিয়েছে? কারণ ওরা বাংলাকে বধ করতে চায়।”

প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইও দপ্তর থেকে বেরিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন যে, ফর্ম-৬ ভর্তি বস্তা নিয়ে সোমবার কমিশনে ঢুকেছিলেন বিজেপির লোকজন। উদ্দেশ্য, বিহার, উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, সিইও অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হোক।

এ প্রসঙ্গে এদিন সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন , “অভিষেককে আমি বললাম, কী হয়েছে বাবু? বলল দিদি তুমি জানো না ৩০ হাজার ফর্ম জমা দিয়েছে নতুন করে। আমি বললাম সে কী? এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছে। আরও বাকি আছে। ৪২ লক্ষ ছাড়াও, ৬০ লক্ষের মধ্যে আরও ১৮ লক্ষ নাম তোলা হল না। আর নতুন করে বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে নাম এনে ঢোকাচ্ছে।”


সভা থেকে তিনি জানান ,”এর জন্য আমি কমিশনকে কড়া চিঠি লিখেছি।”সমাজ মাধ্যমে সেই চিঠি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র রচিত হচ্ছে, সেই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।
বিজেপি এজেন্টরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে হাজার হাজার জালিয়াতিপূর্ণ ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে বাংলার ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার হাইজ্যাকিংয়ের একটি প্রচেষ্টা, যে একই নোংরা খেলা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সফলভাবে খেলেছে।…বাংলা তার গণতন্ত্রকে দিনের আলোয় চুরি হতে দেবে না। বাংলার মানুষ নজর রাখছে।’

তারপরই চন্দ্রকোনার সভা থেকে বিজেপিকে তোপ দেগে মমতার হুঙ্কার, ‘তৃণমূল এখন সমুদ্র, কিছু করতে পারবে না, এক একটা ঢেউয়ে আছড়ে দেবে’!