কানপুরে এক চাঞ্চল্যকর কিডনি পাচার চক্রের (Kidney Trafficing Racket Kanpur) পর্দাফাঁস করল পুলিশ। এক এমবিএ পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্তে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই অবৈধ চক্রের হদিস মেলে। ইতিমধ্যেই ৫ জন চিকিৎসক-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেরাদুনের একটি নামী কলেজের এমবিএ চতুর্থ সেমিস্টারের এক ছাত্র আর্থিক সংকটে পড়ে নিজের কিডনি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তি ফি জোগাড় করতে না পেরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি পাচার চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী কিডনির বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, কানপুরে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রের অস্ত্রোপচার করে কিডনি বের করে নেওয়া হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা না দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা কম দেওয়া হয়। প্রতারিত হয়ে ওই ছাত্র পুলিশের দ্বারস্থ হন।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় ৫-৬ মাস আগে টেলিগ্রামের একটি ‘কিডনি ডোনার’ গ্রুপের মাধ্যমে এই যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। আফজল ও বৈভব নামে দুই চিকিৎসক তাকে কানপুরে নিয়ে আসে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। তাদের গ্রেপ্তারের পরই ধীরে ধীরে সামনে আসে একটি বৃহৎ পাচার নেটওয়ার্কের চিত্র।
পুলিশের দাবি, এই চক্রটি কানপুর, লখনউ, দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা এমনকি নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪০-৫০ জনের কিডনি অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কানপুরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যৌথ দল গঠন করা হয়েছে। শহরের আহুজা হাসপাতাল, প্রিয়া হাসপাতাল ও মেড লাইফ হাসপাতাল পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
পুলিশের মতে, সাধারণ মানুষের আর্থিক অসহায়তাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র তাদের অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল। তদন্ত চলছে, এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।





