Header AD

 ‘কণ্ঠরোধ’-এর অভিযোগে কেজরিওয়ালকে নিশানা রাঘব চাড্ডার! ‘মোদির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান’, সাফাই আপের

Raghab Kejriwal

আম আদমি পার্টির (AAP) রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadda) দলের ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরানোর পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। সরাসরি আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে (Arvind Kezriwal) নিশানা করে রাঘব অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের কথা বলার জন্যই তাঁর কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাঘবের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে আপ নেতৃত্ব। দলের জাতীয় মিডিয়া প্রধান অনুরাগ ধান্ডা পাল্টা দাবি করেন,  নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান রাঘব। তাঁর কথায়, “যে নেতা প্রধানমন্ত্রীকে ভয় পায়, সে দেশের জন্য কীভাবে লড়বে?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় রাঘব বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সমস্যা সংসদে তুলে ধরছেন। গিগ কর্মীদের অধিকার, জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা, টেলিকম সংস্থার রিচার্জ সংক্রান্ত অনিয়মসহ নানা বিষয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, এই বিষয়গুলোতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। তবুও কেন তাঁকে চুপ করানোর চেষ্টা হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। রাঘবের কথায়, “মানুষের স্বার্থে কথা বলা কি অপরাধ? আমাকে হয়তো নীরব করা যাবে, কিন্তু থামানো যাবে না। আমি মানুষের পাশেই থাকব।”

অন্যদিকে ধান্ডার অভিযোগ, সংসদে সীমিত সময় থাকা সত্ত্বেও রাঘব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুর বদলে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “দেশের বড় সমস্যা নিয়ে লড়াই করার বদলে বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে শিঙাড়ার দাম কমানোর মতো বিষয় তুলছিলেন তিনি।”

তবে দলের সঙ্গে রাঘবের দূরত্ব অনেকদিন ধরেই বাড়ছিল বলে সূত্রের খবর। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এমনকি আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়াল মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি রাঘব বা কোনও বার্তাও দেননি। এই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার তাঁকে ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরানো হয়। পাশাপাশি সংসদে দলের নির্ধারিত সময়েও তাঁকে কথা বলতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

সব মিলিয়ে, রাঘব চাড্ডা ও আপ নেতৃত্বের মধ্যে এই প্রকাশ্য সংঘাত দলীয় অন্দরে নতুন রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।