Header AD

‘হিম্মত থাকলে যাদের নাম কেটেছে তাদের সঙ্গে কথা বলুন’, মালদহে শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার

cm manikchak

এসআইআর ( SIRinBengal) তালিকায় মালদহের কত ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এই প্রশ্নের উত্তরে মানিকচকের জনসভায় কয়েক হাজার মানুষের হাত উঠল। যা দেখে কার্যত অবাক হলেন এবং একই সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবং তারপরই মালদহের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি। সভা থেকে তাঁর হুঙ্কার, “হিম্মত থাকলে এই যাদের নাম কেটেছে তাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলুন।” পাশাপাশি এই বিপুল সংখ্যক ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ফের কমিশনকে বিঁধেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর প্রশ্ন, “এতজনের নাম বাদ গেলে ভোট কে দেবে? ভ্যানিশ কুমার?” সঙ্গে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের ট্রাইব্যুনালে অবিলম্বে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

শনিবার মানিকচকের এনায়েতপুর গ্রামীণ গ্রন্থাগার ফুটবল ময়দানে নির্বাচনী প্রচারে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। মালদার নদী ভাঙন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “মালদার সবচেয়ে বড় সমস্যা নদী ভাঙন। ভাঙন রোধে আমাদের সরকার অনেক কাজ করেছে। ভাঙনরোধে আগামী দিনে নদীবন্ধন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। রিসার্চ টিম তার জন্য কাজ শুরু করেছে। “

এরপরই মঞ্চ থেকে এসআইআর প্রসঙ্গে সরব হন তিনি। এই প্রসঙ্গ উঠতেই উপস্থিত জনতাকে মমতা প্রশ্ন করেন, “কত জনের নাম বাদ গিয়েছে?” উপস্থিত জনতার অনেকেই হাত তুলে জানান তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। যা দেখে ‘স্তম্ভিত’ মমতা বলেন, “এতজনের নাম বাদ! তাহলে ভোট কে দেবে? ভ্যানিশ কুমার?” এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ‘নামকাটারী, অত্যাচারী, দুরাচারী সরকার’ বলে কটাক্ষ করেন। তারপরই মঞ্চ থেকে অমিত শাহকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “চ্যালেঞ্জ করছি অমিত শাহ এখানে দাঁড়িয়ে মিটিং করুন। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলুন।” বিজেপির নির্দেশ মেনে কমিশন বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের এলাকায় নাম বাদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গেরুয়া শিবিরকে বিঁধে তিনি বলেন, “বিজেপি কোনও ধর্ম মানে না। ওদের ধর্ম দাঙ্গা করা।” একই সঙ্গে বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা করে তিনি গর্জে ওঠেন, “এদের মানুষের পা ধরে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

যাদের নাম ওঠেনি তাদের অবিলম্বে ট্রাইবুনালে আপিল করার আবেদন জানান তিনি। সভা থেকে দলীয় নেতৃত্বকে মমতার নির্দেশ, “ভোটের প্রচারের পাশাপাশি বাদ যাওয়া প্রতিটি ভোটারকে সাহায্য করতে হবে। আমরা আইনি সাহায্য দেব। এ বিষয়ে কথাও হয়েছে।” পাশাপাশি ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের শান্ত থাকার কথাও বলেছেন মমতা। বলেন, “ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। আমরা সাহায্য করব। কিন্তু বিচারপতিদের কাছে যাবেন না।” সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর বার্তা, “সব কাজ ফেলে আগে এই কাজটা করুন।”