Header AD

‘যুদ্ধের সময় পালিয়ে গেছে’, মালতিপুরের জনসভা থেকে মৌসম নুরকে তোপ মমতার

cm malatipur

” যুদ্ধের সময় পালিয়ে গেছে। পলাতকদের ক্ষমা করবেন না’, মালদহের মালতিপুরে দ্বিতীয় নির্বাচনী জনসভা থেকে নাম না করে সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মৌসম বেনজির নুরকে বিঁধলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মালতিপুরে মৌসমের আসনে দাঁড়িয়েই তাঁকে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘মালদহের কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন। ভোটের আগে তিনি অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবে না। উনি তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন। নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। এত সুযোগ পাওয়ার পরেও দলের বিরোধিতা ভোটের সময়! ভোট যেন না পায়।’’

এদিন মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মৌসম প্রসঙ্গে বলেন, মালদহের কোনও প্রতিনিধি না থাকায় তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। মমতার ভাষায়, “রাজ্যসভায় টিকিট পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ছয় বছর তিনি ছিলেন। এক মাস আগে রেজিগনেশন করেছেন। তাঁকে আমরা লোকসভাতেও পাঠাতে চেয়েছিলাম। মা তাঁর সন্তানকে যতটুকু দিতে পারে সবটাই দিয়েছে।” কিন্তু নির্বাচনের আগে মৌসম নূর অন্য দলে যোগ দেওয়ায় মমতা উপস্থিত সকলকে সতর্ক করে দেন, “যে দলেই যান ভালো থাকুন। কিন্তু ভোটটা তাঁদের দেবেন না। তাঁরা তৃণমূল থেকে সব নিয়েছে, আর যুদ্ধের সময় পালিয়ে গেছে। পলাতকদের ক্ষমা করবেন না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “লোকসভায় বিজেপি ও কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া হলে বিধানসভাতেও কি তাঁদেরই ভোট দেওয়া হবে? আমরা কি খাবি খাব? আপনাদের জন্য লড়াইটা তাহলে কে করবে? বাইরের রাজ্যে বাঙালিদের উপর এত অত্যাচার হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা বিপন্ন। শ্রমিকদের যখন অন্য রাজ্যে মারা হয় তখন তাঁরা কোথায় থাকেন?আমরাই তো লড়াই করছি। ভোটটা এ বার তাই আমাদের দেবেন।” একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, “অন্য দলকে ভোট দিলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখব না। উন্নয়ন চলবে। তবে আমি খুব সেন্টিমেন্টাল। আমি অসম্মানিত বোধ করব। আর সম্পর্ক রাখব না।’’

পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের ‘দলের সম্পদ’ আখ্যা দিয়ে এদিন সভা থেকে মালদাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “তৃণমূলের ওপর আস্থা রাখলে ঠকবেন না।” একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ভূমিকার কড়া সমালোচনাও করেন তিনি।

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “জানি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। অনেকের নাম কাটা হয়েছে, অনেক অত্যাচার করা হয়েছে।” তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এলাকার উন্নয়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মালদহে কাজ করেছি। চাঁচলে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে, যা এই এলাকার মানুষের বড় ভরসা।”