SIR প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের চাকা এখনও সর্বত্র ঘুরতে শুরু করেনি। পরিকাঠামোর ঘাটতি বারবার সামনে আসছে, উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India) হঠাৎ করেই রবিবার গভীর রাতে আরও একটি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, বিচারাধীন (Adjudication)প্রায় ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বাকি অংশ নিয়েও তৎপরতা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার, আরও একটি তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। কমিশনের দাবি, এই তালিকার মাধ্যমেই মিটে যাবে সব বকেয়া প্রক্রিয়া। তবুও ধোঁয়াশা কাটছে না। ঠিক কতজন ভোটারের নাম শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি এখনও। উল্টে
অভিযোগ উঠছে, নতুন তালিকাতেও (Voter List)অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বহু অযোগ্য ভোটারের নাম, যাদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। এদিকে ট্রাইব্যুনালগুলি এখনও পুরো দমে কাজ শুরু করতে না পারায়, এই সমস্ত ভোটাররা আদৌ এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর (SIR In Bengal)প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল তালিকা থেকে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ছিল বিচারাধীন অবস্থায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সেই সমস্ত নামের নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর, এবং জানা যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া এখন প্রায় শেষের পথে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ভোট—২৩ এপ্রিল। তার আগে—সোমবার ৬ এপ্রিল ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, এর পর আর নতুন করে কোনও নাম তালিকায় যোগ করা হবে না। চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরাই শুধুমাত্র ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, শেষ পর্যন্ত মোট কতজন ভোটার তালিকায় থাকছেন। এই চূড়ান্ত সংখ্যার বিস্তারিত তালিকা আগামী ৯ এপ্রিল প্রার্থীদের হাতে তুলে দেবে নির্বাচন কমিশন। ফলে ভোটের আগে পর্যন্ত সংখ্যাটা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। তার আগেই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ৯ এপ্রিলই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকা। অর্থাৎ ওই দিন পর্যন্ত থাকা নামই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এর পর আর কোনও সংযোজন বা সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী ধাপে, ১২ এপ্রিল সেই তালিকা তুলে দেওয়া হবে প্রার্থীদের হাতে। ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আগে কে কোথায় দাঁড়িয়ে, তার কিছুটা চিত্র স্পষ্ট হবে।
তবে সবকিছুর মাঝেই রয়ে যাচ্ছে বড়সড় সংশয়। ট্রাইব্যুনালের কাজ এখনও পুরো গতিতে শুরু হয়নি। কমিশনের এক সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলে বিচারপতিদের পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করতে অন্তত আরও এক মাস সময় লাগবে। ফলে ভোটের প্রস্তুতি এগোলেও, বিচারাধীন নামগুলি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।





