Header AD

সুপ্রিম ভর্ৎসনায় চাপে কমিশন! বুধবার জ্ঞানেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জেলাশাসকরা

Gyanesh meeting

মোথাবাড়ির ঘটনাকে (Mothabari Incident) কেন্দ্র করে তীব্র চাপে নির্বাচন কমিশন (ECI)। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Of India) কঠোর ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন কমিশন নিযুক্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠক ডাকতে চলেছে  কমিশন। আগামীকাল বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পর্যবেক্ষকদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, বৈঠকে নেতৃত্ব দিতে পারেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে সিইও মনোজ আগরওয়ালেরও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট, যেখানে ১৫২টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই মালদহের কালিয়াচক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল। গত ১ এপ্রিল সকাল থেকেই কালিয়াচকে শুরু হয় বিক্ষোভ, এসআইআর-এ (SIRinBengal) নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে। তবে বেলা গড়াতেই সেই বিক্ষোভ ঘুরে যায় ভয়াবহ রূপে। ক্ষুব্ধ জনতার রোষ গিয়ে পড়ে এসআইআর-এর কাজে যুক্ত বিচারকদের ওপর। কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিচারক ছিলেন, যাঁদের মধ্যে একজন মহিলা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকা কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়া বিচারকদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার রেশ গিয়ে পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত এনআইএ-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনকেও তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার রাতে এসআইআরের তালিকায় বিচারাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি করে ফেলেছে বলে দাবি করছে কমিশন। যদিও এখনও ট্রাইব্যুনাল (Tribunal) গঠন সম্পূর্ণ হয়নি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। এ প্রসঙ্গে হস্তক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, এই সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য দ্রুত কমিটি তৈরি করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ভোট প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইতে পারে কমিশন। শুধু নির্বাচন প্রস্তুতি নয়, ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে অগ্রগতি এবং মোথাবাড়ির ঘটনার মতো সংবেদনশীল বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।