Header AD

হাত কেটে থামাতে পারেনি স্বামী, এবার ভোটাধিকার অনিশ্চিত! মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই ভরসা খুঁজছেন রেণু

Renu Khatun SIR

বর্ধমানের কেতুগ্রামের চিনিসপুরের বাসিন্দা রেণু খাতুন (Renu Khatun Ketugram) একসময় নিজের অদম্য মানসিক শক্তির জন্য সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। স্বামীর ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি হার মানেননি। কিন্তু এবার নতুন সমস্যায় পড়েছেন তিনি—ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে তার নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন রেণু।

রেণু নিজের পছন্দে সরিফুল শেখকে বিয়ে করেছিলেন। জেএনএম পাশ করার পর দুর্গাপুরের একটি নার্সিংহোমে কাজ শুরু করেন। পরে স্বাস্থ্যদপ্তরের নার্স পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের চিঠিও পান। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু ২০২২ সালের জুন মাসে তার জীবন হঠাৎ বদলে যায়। অভিযোগ, স্বামী তার চাকরি করা মেনে নিতে পারেননি। নতুন কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও রেণু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এর জেরে এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার ডান হাত কবজি থেকে কেটে দেওয়া হয়। সেই সময় কয়েকজন তার মুখ বালিশ দিয়ে চেপে ধরে রাখে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে শয্যায় শুয়েই কয়েক দিনের মধ্যে বাম হাতে লেখার অনুশীলন শুরু করেন রেণু। তার এই লড়াই এবং মানসিক জোর সকলকে অনুপ্রাণিত করে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন এবং সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তার চিকিৎসা এবং প্রস্থেটিক হাতের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তিনি সরকারি নার্সের চাকরিও পান।

তবে চার বছর পর আবারও সমস্যায় পড়েছেন রেণু। সম্প্রতি প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। শুধু তারই নয়, তার দাদা ও ভাইয়ের নামও বাদ পড়েছে। অথচ এতদিন তিনি কেতুগ্রামের ৩৩ নম্বর বুথের নিয়মিত ভোটার ছিলেন। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রেণু। তিনি জানিয়েছেন, তার মা-বাবাও দীর্ঘদিন ধরে ভোটার এবং সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। তবুও নাম বাদ পড়ায় তিনি বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন।

এই পরিস্থিতিতে তিনি ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, আবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্যের আশায় রয়েছেন। রেণুর বিশ্বাস, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি নিশ্চয়ই পাশে দাঁড়াবেন এবং সমস্যার সমাধান করবেন।