‘‘বাইরে থেকে লোক আসছে। মিছিল করার লোক নেই বিজেপির। এজেন্সিকে দিয়ে হোর্ডিং লাগাচ্ছে। গরিব মানুষকে ৫০০ টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে বলছে, মিছিলে আসবে।’’ পানিহাটির নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপিকে (BJP) তীব্র কটাক্ষ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি গর্জে ওঠেন, ‘‘ওহে মোটাভাই, সাথে ইডি, সিবিআই। দিল্লিতে থেকে এল গাই, সাথে ইডি, সিবিআই। হুমকি দিচ্ছেন সকলকে। ধমক দিচ্ছেন। ওঁর কাজ ফোন করে ধমকানো। কেউ কেউ কিছু পাওয়ার জন্য মাথা নত করে। আমাকে কব্জা করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, পারেনি। পারবেও না। আমাকে ধমকালে আমি চমকাই।”
পানিহাটির জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন ‘‘আমি ভাগাভাগিতে বিশ্বাস করি না। কেউ কেউ বাঙালি-অবাঙালি করার চেষ্টা করছেন। কত লোককে দাঁড় করিয়েছেন কোনও কোনও আসনে। তাঁদের জমানত জব্দ করতে হবে।’’রাজ্যের কঠিন সময়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কোনও রকম সহযোগিতা করে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যখন বন্যা হয়, একটা টাকা দেয় না। কেউ মারা যায়, টাকা দেয় না। বাংলায় কথা বললে অত্যাচার করে। বিহারে অত্যাচার হয়। ইউপি, রাজস্থানে হয়। দিল্লির জমিদারেরা এর জবাব দেবেন? কেন বাংলায় কথা বললে বিদেশি, অনুপ্রবেশকারী বলবেন?’’
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘‘ভোটবাবুরা আসছে। এত নাম কেটে লজ্জা নেই? ৯০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী? পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালে আপনারা বলেছিলেন, সারা দেশে মাত্র ২,০০০ অনুপ্রবেশকারী। আপনারা অনুপ্রবেশকারী? আজ যারা এখানে জন্মাল, তারা অনুপ্রবেশকারী? লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিক!’’এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সীমান্ত আটকানোর দায়িত্ব কার? আমোদী-প্রমোদীরা বলছেন, এটা না কি অনুপ্রবেশের কারখানা। আমি বলব বহিরাগতদের কারখানা!এখানে বহিরাগতদের কোনও ঠাঁই নাই।’’
সভা থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েও সরব হন তিনি, ‘‘১০০ দিনের টাকা বন্ধ। গ্রামীণ আবাসনের টাকা বন্ধ। রাস্তা-সহ সব টাকা বন্ধ। দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাডা় কে করেছিল? স্কাইওয়াক করে করেছিল? আমি করেছিলাম। এই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে!” মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘এখানে এসে বলে সুনার বাংলা তৈরি করবে। সুনার দেশ কি হয়েছে? নোটবন্দি করে লোকের টাকা কেড়েছ। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। কালো টাকা কি ফেরত আনতে পেরেছেন?’’
সভা থেকে দখলদারির রাজনীতি নিয়ে এলাকার কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানদের সতর্ক করলেন নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, ” একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানরা শুনে রাখুন। তৃণমূল দলটা করতে গেলে সবুজ ধ্বংস করা চলবে না, মাঠ দখল করা চলবে না। বেআইনি নির্মাণ চলবে না। এখানে একটা মাঠ দখল করা হচ্ছিল বলে আমার কানে খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ধরেছি। যদি ভেবে থাকেন, আমি কলকাতায় থাকি বলে পানিহাটিতে কী হচ্ছে, জানব না, মালদহে কী হচ্ছে জানব না, সেটা কিন্তু নয়। সবার সব খবর আমি রাখি।”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পানিহাটিতে দলীয় প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের হয়ে সভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিজেপির প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মা।





