ফের বাংলার এক মহীয়সী নারীকে ঘিরে নামবিভ্রাট, আর তা নিয়েই তীব্র বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে শুক্রবার ‘সংকল্পপত্র’ বা ভরসার শপথ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। কিন্তু নারী সুরক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়েই তিনি উচ্চারণে ভুল করে ফেলেন যার ফলে তৈরি হয় সেই বিতর্কিত মুহূর্ত। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ‘রানি রাসমণি’-র নাম উচ্চারণ করেছিলেন ‘রানি রসমণি’। এবার অমিত শাহের মুখে শোনা গেল আরও ভিন্ন রূপ—‘রানি রাসমতী’! স্বাভাবিকভাবেই এই উচ্চারণভ্রান্তি ঘিরে শুরু হয়েছে কটাক্ষের ঝড়।
শুক্রবার BJP-র ভোটের ইস্তেহার প্রকাশ করার সময় শাহ বলেন, রাজ্যে মহিলা নিরাপত্তা জোরদার করতে দুটি মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হবে—একটি মাতঙ্গিনী হাজরার নামে, অন্যটি রানি রাসমণির নামে। কিন্তু সেই ঘোষণার সময়ই নাম ভুল উচ্চারণ করায় প্রশ্ন উঠছে তাঁর প্রস্তুতি ও বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে। অনেকের মতে, বাংলার মানুষ এই বিষয়টি সহজভাবে নেবে না, বরং এটি আরও একবার ‘বহিরাগত বনাম বাঙালি আবেগ’-এর বিতর্ককে উসকে দিতে পারে।
এর আগেও বাংলার মাটিতে নির্বাচনী প্রচারে এসে মনীষীদের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির একাধিক নেতা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এর আগে একবার ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলে উল্লেখ করে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ‘রানি রাসমতী’। ফলে ফের একবার প্রশ্ন উঠছে—বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মনীষীদের প্রতি দিল্লির নেতৃত্ব কতটা সংবেদনশীল? এই প্রেক্ষাপটে বিরোধীদের তির্যক প্রশ্ন—নারী নিরাপত্তা নিয়ে যত প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হোক না কেন, যাঁদের নাম করে সেই প্রতিশ্রুতি, তাঁদের পরিচয় ও মর্যাদা নিয়েই যদি এমন গাফিলতি থাকে, তবে কি সত্যিই বাঙালির আস্থা অর্জন সম্ভব? ভোটের আগে এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।





