২০২৬ সালের বাংলা জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে বিজেপি শুক্রবার কলকাতা থেকে প্রকাশ করল তাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্র—‘ভরসার শপথ’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এই ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত শাহ এমন মন্তব্য করেছেন, যাতে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ বলে দাবি করে শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিজেপির ইস্তাহারে যে ১৫ প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে সেগুলিকে ধরে ধরে শাহকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। শাহকে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “শেখ হাসিনা দিল্লিতে কী করছেন? কোন শিল্পপতিকে বাঁচাকে হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে? যখন বাংলাদেশে চিন্ময় প্রভুর উপর লাগাতার অত্যাচার হয়েছিল, তখন দিল্লি কোন ভূমিকা নিয়েছে?”
শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ নিয়ে বিজেপির অবস্থান আদৌ কতটা স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “শেখ হাসিনা দিল্লিতে কেন রয়েছেন? তাঁকে কোন স্বার্থে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে? তিনি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী—কেন্দ্র তা স্পষ্ট করুক।”বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে অন্য রাজ্যে হেনস্তার ঘটনাও তুলে ধরে তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশি পরিচয়কে এক করে দেখানোর চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে এসআইআর তালিকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ যাবে বলে বিজেপি নেতাদের আগের মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর সংযোজন, যদিও দেখা যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়া নামের বড় অংশই হিন্দু বাঙালিদের।
অভিষেকের দাবি, অমিত শাহর বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার—বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য পরিচালিত হবে দিল্লি ও গুজরাতের নির্দেশে। তাঁর কটাক্ষ, “আজ শাহ মুখ ফসকে বলে দিয়েছেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে দিল্লি এবং গুজরাত থেকে পরিচালিত হবে।”
উল্লেখ্য বিজেপি তাদের ইস্তাহারে ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা বলেছে। সেই দাবিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন‘‘তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে। কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাসে ৩০০০ টাকা দেবে। মোদী ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হবে। ১২ বছর তিনি ক্ষমতায় ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। গড়ে প্রতি বিধানসভায় ৫৮ হাজার জনের নতুন চাকরি হওয়া উচিত। বাংলা জুড়ে শাহ ৫০০০ লোক দেখান, যাঁকে মোদী সরকার চাকরি দিয়েছে গত ১২ বছরে। একই জিনিস দিল্লিতেও বলে। অসমে সরকার রয়েছে। ত্রিপুরা, বিহারে সুবিধা দিন। একাধিক রাজ্যে এনডিএ সরকার রয়েছে। করে দেখান।’’
এরপর অভিষেকের কটাক্ষ, ‘‘বিজেপির প্রতিশ্রুতি হচ্ছে চিটফান্ডের মতো। এদের প্রতিশ্রুতির দাম নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন।” এমনকি মহিলাদের সাবলম্বী করতে বিজেপি ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাকেও ‘জুমল’ বলে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। পাশাপাশি বিজেপির ইস্তাহার অনুযায়ী রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তফসিলি জনজাতি (এসটি)-রা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাম না করে শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন, ‘‘মাথার ছাদ বন্ধ করেছেন। রাস্তা বন্ধ করেছেন। আপনারা লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী দেবেন? মানুষের ভাল চাইলে আপনি বলুন, ভোটে যাই ফল হোক, বাংলার প্রত্যেক যুবক-যবতীকে ৩০০০ টাকা দেবেন। যা বলেছি, ক্ষমা চেয়ে নেব।”
ফলত বলাই চলে, বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রশ্নে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি।





