বাংলায় নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ তত বাড়ছে। গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক রণধীর কুমার (Randhir Kumar)। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘সিইএসসি থেকে আমাদের বিদ্যুৎসংযোগ নেওয়া হয়েছে। লোডশেডিং যাতে না হয়, তা আগে থেকে নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়াও পাওয়ার ব্যাক আপ থাকছে। গণনাকেন্দ্রগুলিতে সাধারণত বিদ্যুতের ব্যাক আপ থাকে। জেনারেটর থাকবে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হবে।” ভোটগণনার দিনে লোডশেডিং হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই স্পষ্টভাবে জানান রণধীর । তাঁর এই মন্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারেই দেখছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।
সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন রণধীর কুমার। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে নজরদারি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে কমিশন। পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। দক্ষিণ কলকাতার অন্তর্গত চারটি বিধানসভা কেন্দ্র—ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, রাসবিহারী এবং কলকাতা বন্দর—মিলিয়ে মোট ১০৯৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে চারশোরও বেশি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাসবিহারী কেন্দ্রের অন্তর্গত দুটি বহুতলে ভোটগ্রহণের জন্য বুথ তৈরি করা হচ্ছে, যা নগর এলাকার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে রণধীর কুমার জানান, গোটা দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে মোট ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ভবানীপুর কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভোটগণনার দিন সম্ভাব্য কারচুপির আশঙ্কাও রয়েছে। দলীয় এজেন্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অতীতে নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার সরাসরি উল্লেখ না করলেও, ‘লোডশেডিং’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এজেন্টদের সজাগ থাকতে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোটগণনার দিনে যদি লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেবে, এই প্রশ্নের মুখে পড়েন রণধীর কুমার। তিনি জানান, ”লোডশেডিং হলে বিকল্প স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকবে।“ তাছাড়া লোডশেডিং হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।





