বিধানসভা নির্বাচনের আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। তার আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় প্রথম সভা করার পর পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে এদিন দ্বিতীয় জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী । তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, “বিজেপির কথা না শুনলে তৃণমূলের সবাইকে অ্যারেস্ট করো। ইনস্ট্রাকশন গিয়েছে। আমরাও দেখতে চাই কাকে কাকে অ্যারেস্ট করছ, করো। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, বাংলা আবার তৃণমূল দখল করবে।’’ এর সঙ্গে তাঁর সংযোজন , “হিংসা তো তোমরা করো, আমরা তো করি না, এর প্রমাণ তো অনেক আছে! তোমার যদি শান্তি রক্ষা করতে হত, তুমি বাংলার পুলিশকে বিশ্বাস করতে। তা না করে বাংলার পুলিশের সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে আসছ কেন?”
সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের ভোটের জন্য “সেন্ট্রাল ফোর্স দু’লক্ষ এসেছে, দাঙ্গার সময় পাওয়া যায় না। যুদ্ধের সময় পাওয়া যায় না, বন্যার সময় পাওয়া যায় না। সন্ত্রাসের সময় পাওয়া যায় না।” একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশিকার প্রতিবাদ করে তিনি এদিন অফিসারদের পুড়িয়ে মারার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি গর্জে উঠে বলেন, ‘‘বার্নল রেখে দিন, এত গরম পুড়ে যাবেন, কথাটার অর্থ কী? ভাষাটার অর্থ কী? তার মানে বিজেপিকে সাপোর্ট না করলে অফিসারদের পুড়িয়ে দেবেন। কাল রায়গঞ্জে এক বয়স্ক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল পোস্টাল ব্যালটের ভোটটা বিজেপিকে দিতে হবে। কেন দেবে? আমাদের কি বন্ডেড লেবার পেয়েছে না কি?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তোমাদের মতো আমরা দাঙ্গা করি না, খুন করি না, রক্তের রাজনীতি করি না। রক্ত তোমাদের নেশা, আর ভালবাসা আমাদের পেশা।’’
উল্লেখ্য গণনা কেন্দ্রে লোডশেডিং নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে তারপরও এদিনের সভা থেকে মমতা কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, ‘পুলিশ যদি আপনাদের উপর অত্যাচার করে, তা হলে কমপ্লেন করবেন। এখানে তো দেখে দেখে লোক নিয়ে আসা হয়েছে। যাঁরা কাউন্টিংয়ের সময় লোডশেডিং করে দেবে। ইভিএম খারাপ করে দেবে। স্লো কাউন্টিং করবে। স্লো ইলেকশন করবে। সকালে থেকে দেখাবে বিজেপি জিতছে। জিতবে না। এটা ওদের পরিকল্পনা। কেউ বিশ্বাস করবেন না।’’
তমলুকের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী কিছু পুরনো স্মৃতি তুলে ধরে বিজেপি ও সিপিআইএম-কে এক যোগে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘‘যখন কৃষক আন্দোলন চলছিল, সেই সময় কোলাঘাটে আটকে দেওয়া হল, সিপিএমের রাজত্ব ছিল এবং যিনি এখন বিজেপির বড় নেতা হয়েছেন তাঁরও হাত ছিল। জগাই, মাধাই গদাই সব একসঙ্গে আন্ডারস্ট্যাডিং ছিল।’’ এই সভায় ফের মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘‘সব অফিসার বদল করে, নতুনদের তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছে। যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে বসতে না-পারে।’’ এপ্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, ‘‘প্যারারাল মেশিনারি তৈরি রাখুন।’’
এর আগে বহুবার রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। এবার সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন তিনি বলেন, “আমি শুনেছি এগরা থেকে শুরু করে, পটাশপুর থেকে শুরু করে ২০ জন করে বেছে নিয়ে টাকা দিচ্ছে। মোটা টাকার গল্প। যদি ভোট দিলেন তো গেলেন। আপনার অধিকার কেড়ে নেবে। শুনেছি ১৫ তারিখ ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসছে। ”





