কেউ ঝাড়ুদার, কেউ সাফাইকর্মী (Sanitation workers) , আবার কেউ শৌচাগার পরিষ্কারের দায়িত্বে কর্মরত। অনেক সময় ডোমের কাজও সামলাতে হয় তাঁদের। এবার নির্বাচন কমিশনের (ECI) সিদ্ধান্তে তাঁরাই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন। মালদহ জেলায় অন্তত চল্লিশ জনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সোমবার মালদহের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব (TMC)। তাঁদের প্রশ্ন, এটা নির্বাচন নাকি ছেলেখেলা হচ্ছে?
এতেই শেষ নয়। যাঁরা ভোটের এই দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই জানাচ্ছেন তাঁরা স্বাক্ষর করতে পারেন না, আঙুলের ছাপ দিয়েই কাজ সারেন। ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণা নেই বলেই অনেকের দাবি।
হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশনের তৃতীয় পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়ে তাঁরা নিজেরাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এঁদের অধিকাংশই ইংলিশবাজার পুরসভার কর্মী। কেউ আবার কো-অপারেটিভ হোলসেল কনজিউমার সোসাইটিতে সহায়ক কর্মী হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন পেশার মানুষকে তৃতীয় পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ভোটের দায়িত্ব বণ্টনের এমন নমুনা দেখে রাজনৈতিক দলগুলির নেতারাও বিস্মিত। বিষয়টি নিয়ে সব দলেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জেলায় ভোটের দায়িত্বের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকাতেই দেখা গিয়েছে, তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসেবে এমন বহু ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁদের নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০ জন সাফাইকর্মীকে তৃতীয় পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ায়, ভোটের কয়েক দিন শহরজুড়ে সাফাই পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইংলিশবাজার পুরসভা কর্তৃপক্ষ। পুরসভার কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু জানান, ইতিমধ্যেই পুরসভার তরফ থেকে এ বিষয়ে চিঠি করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। মালদহের অতিরিক্ত জেলা শাসক অনিন্দ্য সরকার বলেন, সবকিছুই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ও গাইডলাইন অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে কিছু ভুলত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।





