Header AD

মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলকে কেন জোড়া হচ্ছে? বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তের অভিযোগ মমতার

cm aliporeduar

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে এই মুহূর্তে জুড়ে দেওয়া হয়েছে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল বা ডিলিমিটেশন বিল। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে লোকসভায় তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। কোচবিহারের মাথাভাঙায় সভার পর আলিপুদুয়ারের সভা থেকেও এই ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর প্রশ্ন, কেন মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে?” কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা মহিলা বিলকে সমর্থন করি। মহিলা বিল তো অনেক দিন আগেই পাশ করা আছে। সেটা পাশ করতে এতো দিন লাগল কেন? মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলকে জুড়ে দিয়ে মহিলাদের অসম্মান করা হচ্ছে। দুটো আলাদা বিল। এটা বাংলাকে খণ্ড খণ্ড করার চক্রান্ত।” তাঁর আরও দাবি, এ ভাবে দিল্লির বিজেপি সরকার রাজ্য ভাগ, ভোটারদের নাম কাটা ও NRC প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে।

বৃহস্পতিবার প্রথমে কোচবিহারের মাথাভাঙায় সভা করেন তিনি। এর পরে আলিপুরদুয়ারে সভা করেন তৃণমূলনেত্রী। এদিন আলিপুরদুয়ারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মহিলা বিলের কথা বলছে। কিন্তু তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন কেন করছ? কারণ বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা করছ, সারা দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করছ। কেটে কেটে খণ্ড খণ্ড করার চেষ্টা করছ। মহিলা বিল আর ডিলিমিটেশন বিল একসঙ্গে হতে পারে না। এটা ভোট কাটা ও NRC করার পরিকল্পনা।’সভা থেকে বিজেপি-কে বিঁধে মমতার প্রশ্ন, “কী করেছে তারা! বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে হোটেল বুক করে টাকা ডিস্ট্রিবিউশন করছে। যখন বন্যা হয়েছিল, তখন কোথায় ছিল?” এর সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ঝড়ে, জলে, সাইক্লোনে, বন্যায়, বাড়ি ভেঙে গেলে, উন্নয়নে দেখা নাই। ভোটের সময়ে তাই বলছি, আগামী পাঁচ বছর তোমার দেখা নাই গো, তোমার দেখা নাই। বাংলায় তোমাদের জায়গা নেই। পরিষ্কার।”

সভা থেকে মোদিকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেন, আপনারা আসলে সপ্তম পে কমিশন চালু করবেন। আরে ওটা তো ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা চালু করে দিয়েছি। কিছু বলার আগে আপনার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটাকে তো সম্মান করুন। মিথ্যা কথা বলার আগে ভাল করে ক্রসচেক করুন।” চাকরি নিয়েও মোদির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “আপনারা বলেছিলেন ভোটের আগে যে প্রতি বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন। তাতে ১২ বছরে আপনাদেরও ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু রেলে কাজ করার জন্য গ্যাংম্যানও নেই।”

এমনকী এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “ভোটের আগে ফর্ম আর কার্ড বিলি করছে। একটা অর্থমন্ত্রী আদর্শ আচরণবিধি ভেঙে বেআইনি কাজ করছে। ভারত সরকার করছে।” এরপর গর্জে উঠে তিনি বলেন, “দেখুন, যারা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের গ্রেপ্তার করবে, আমার গাড়ির সামনে এসেও চেক করবে! আমি বলেছি, করো ভাই। এসো। কী পাবে, আমি দেখতে চাই। যা পাবে দেখলে তোমাদের লজ্জা হবে। কিন্তু আমার গাড়ির সামনে এলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িও চেক করতে হবে। হোটেলে হোটেলে বিজেপির যে নেতারা বসে আছে, তাদের ভান্ডারে কত টাকা আছে, ক্ষমতা থাকলে উদ্ধার করুন। সেই টাকা জনগণের কোষাগারে দিয়ে দিন। সারা ভারত থেকে লুঠেরা বাহিনী, বর্গীবাহিনী এসেছে।”