কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর কথায়, “দুমাস আগে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বলছে কুড়মালি ভাষাকে আমরা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে যোগ্য মর্যাদা, স্বীকৃতি দেবো। আরে দুমাস আগে মমতা ব্যানার্জীর সরকার চিঠি লিখেছে, এখনো পর্যন্ত হয়নি কেন? ইডি ডিরেক্টরের মেয়াদ বাড়ানো যায়। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের অবৈধভাবে যারা সংবিধান বিরোধী কাজ করছে, তাদের মেয়াদ বাড়ানো যায়। আর কুড়মি সমাজের দাবিকে মান্যতা দিয়ে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না কুড়মালি ভাষাকে।”
বৃহস্পতিবার গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতোর সমর্থনে আয়োজিত কুলটিকরী ময়দানের জনসভা থেকে বিজেপিকে (BJP)একের পর এক ইস্যুতে আক্রমণ করেন তিনি। এদিনের সভায় জঙ্গলমহলের অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি ‘কুড়মি সমাজ’-র আবেগ ছুঁয়ে অভিষেক জানান, রাজ্য সরকার দুমাস আগেই কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু মোদী সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। সেখানকার স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোকে কড়া আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “দিল্লিতে কুড়মি সমাজের উন্নয়নের নাম করে রাজেশ মাহাতোরা নিজেদের ডিল করে চলে এসেছে। কুড়মালি ভাষা নিয়ে আমার কথা মিথ্যে প্রমাণ করতে পারলে আমি রাজনীতি থেকে বিদায় নেব।”
এর পাশাপাশি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মি সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “ আজ থেকে সাত দিন আগে অমিত শাহ বলেছে বিজেপি বাংলায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি করা হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কি? জোর করে আপনার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। আপনি ধর্ম কিভাবে পালন করবেন? সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসটিরা, কুড়মি ভাইরা।”
ভোটের আগে বিরোধীদের টাকা বিলি নিয়ে সাধারণ মানুষকে তাঁর পরামর্শ, “বিজেপির নেতারা টাকা দিতে এলে নিয়ে নেবেন। কারণ ওই টাকা বাংলারই বকেয়া টাকা। পদ্মফুলের থেকে টাকা নেবেন, আর জোড়াফুলে ভোট দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “যে মাটির জন্য বাংলার বীর বিপ্লবীরা প্রাণ দিয়েছিল, যে মাটি স্বাধীনতা আন্দোলনে পথ দেখিয়েছিল, নবজাগরণে পথ দেখিয়ে ছিল, কোনদিন বশ্যতা স্বীকার করেনি, দিল্লি-গুজরাত থেকে সেই মাটিকে পরিচালিত করতে চায়। এই নির্বাচন খালি তৃণমূলকে জেতানোর নির্বাচন নয়। এমন ভাবে বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন, মানুষের সাথে বেইমানি করার আগে যাতে আগামী দিনে একশো বার ভাবে।” এছাড়া এদিনের সভা থেকে গোপীবল্লভপুরে জয়ের ব্যবধান বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, “এবার গোপীবল্লভপুর বিধানসভা থেকে তৃণমূলকে চল্লিশ হাজার বেশি ব্যবধানে জেতাতে হবে।”





