Header AD

‘নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব, এটা তো অত্যাচারের উৎসব চলছে!’ কেন্দ্রকে মোক্ষম নিশানা মমতার

cm dumdum

শুক্রবার উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে দমদমে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) সমর্থনে দমদম সেন্ট্রাল জেলের ময়দানে জনসভা করেন। সভা থেকে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানা, এসআইআর সহ একাধিক বিষয়ে সরব হন তিনি। মমতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। এটা তো অত্যাচারের উৎসব চলছে।’’বিজেপি (BJP) জোর করে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সভা থেকে বিজেপির ইস্তাহারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘তৃণমূলকে চার্জশিট দিচ্ছে। চার্জশিট তো ওঁদের দেওয়া উচিত। কেন অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না?’’এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি গর্জে ওঠেন, ‘‘কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, এই হানাগুলো যখন তোমাদের বাড়িতে হবে, তখন সামলে নিও।’’বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। এসআইআর-এ (SIR) নাম কাটা নিয়েও কেন্দ্র ও কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন তিনি। বলেন, ‘‘এজেন্সির অপব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমি সাত বার সাংসদ হয়েছি। এমন জীবনে কখনও দেখিনি। ভোটের আগে মানুষের নাম কেটেছে। কোনও ধর্ম-বর্ণ না দেখে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। অন্য কোনও রাজ্যে যা হয়নি, এখানে তা হয়েছে। শুধু বাংলার ক্ষেত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন এজেন্সিকে দিয়ে হেনস্থা করছে।’’

সভা থেকে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বা়ড়িতে আয়কর হানা নিয়ে সরব হন মমতা। বলেন, ‘‘তৃণমূলের প্রার্থীর বাড়িকে আয়কর হানা। প্রার্থী প্রচার করবেন কখন? এখন আটকে রাখা মানে তাঁর একটা গোটা দিন নষ্ট। ইডি, সিবিআই, আইটি সবাই তল্লাশি চালাচ্ছে। বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ের হিম্মত নেই? ভোটে লড়া তো সাংবিধানিক অধিকার। আটকে রেখে তার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। আমি আইনি পদক্ষেপ করব যতটা সম্ভব।’’বিজেপিকে জুমলা সরকার বলে কটাক্ষ করলেন মমতা। এর পরিপ্রেক্ষিতে দল নেত্রীর সতর্কবার্তা, ‘‘কাউন্সিলরেরা সাবধান। যে কোনও সময় হানা দিতে পারে। মাথা নত করবেন না। লড়ে যেতে হবে।’’

পাশাপাশি কেন্দ্রকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘আমরা শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে। কিন্তু অত্যাচার হলে দুরন্ত খেলা খেলতে পারি। দুরন্ত খেলা হবে। বাংলা জয় করে দিল্লিকে জয় করব, কথা দিলাম। আমি চেয়ার চাই না। কিন্তু মানুষের উপর যে অত্যাচার করা হয়েছে, আমি রাজনৈতিক ভাবে তার বদলা নেবই নেব।’’

সভা থেকে মহিলা বিল প্রসঙ্গেও সরব হয়ে তিনি বলেন, মহিলা বিল সমর্থন করলেও তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলকে তৃণমূল সমর্থন করবে না। মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘মহিলা বিলের সঙ্গে অন্য কিছু আনতে যেয়ো না। আমরা তা হতে দেব না।’’ভোটের আগে তল্লাশি অভিযানের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘মহিলারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, ওরা ব্যাগ খুলে দেখছে! আমি ভাবি, কী খুঁজছে? লিপস্টিক খুঁজছে? কোন দিন ব্যাগে কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে ধরে নিয়ে যেতে পারে! খুব সাবধান।’’

এরপরই কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে তাঁর আবেদন, ‘‘সব এজেন্সিকে আমার অনুরোধ, একতরফা ভাবে একটা দলের জন্য কাজ করবেন না। দেশের জন্য কাজ করুন। আপনাদের সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই।’’