বাংলায় প্রথমদফার ভোটের (Election In Bengal) আর মাত্র দুদিন বাকি। প্রচারের শেষবেলায় পুরুলিয়ার বলরামপুরে জনসভা করতে গিয়ে সেখানকার BJP প্রার্থীকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিজেপির প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোটে লড়ছেন বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক । এদিনের সভা থেকে তিনি কড়া সুরে বলেন, “আমি শুনেছি এখানকার যে সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো, তাঁর আপ্তসহায়ক এই বিজেপি প্রার্থী। আমি ঠিক ভুল জানিনা, সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে নতুন গাড়ি গিফট করে বিজেপির প্রার্থী টিকিট নিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতো, এখানে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি দিল্লির তোলপিবাহক জ্যোতির্ময় মাহাতোর আপ্তসহায়ক।। তাঁর অধীনে বলরামপুরবাসীকে থাকতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন,” আপনারা কি মেনে নেবেন এই অপমান? দিল্লির ক্রীতদাসের আপ্তসহায়কে আপনাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সারা জীবন রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেননি। ৫ মাস আগে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে হারিয়েছে। তাও আপনাদের পাশ থেকে সরেননি। এই হচ্ছে শান্তিরাম মাহাতো।”
তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য নিয়ে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “মোদির (Narendra Modi) গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি। আর তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি। কথা দিয়ে কথা রাখার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। পুরুলিয়ার ডবল ইঞ্জিন সরকারের সাধ ২০১৯ সাল থেকে পেয়েছে। সাংসদ বিজেপির, বিধায়ক বিজেপির। কি পেয়েছেন বলরামপুরবাসী?” অন্যদিকে মানুষের অধিকার রক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। যাকে এখানে জিতিয়েছিলেন ৫ বছর অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাননি। SIR-এর সময় ফর্ম ফিলাপ করবেন, হিয়ারিং সেন্টারে যাবেন, BJP-র কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়েছে।”
এ দিনের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “এখানকার ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের পরিবারকে তৎকালীন বিজেপি সারা ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এসে বসেছিলেন তাদের পরিবারের কোন এক সদস্যকে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও একটি দপ্তরে সরকারি চাকরি করে দেবে। আজ আট বছর হয়ে গেছে তারপর তাদের পরিবারের কোনও সদস্য যদি বিজেপির কোন কর্মীকে বা জ্যোতির্ময় মাহাতোকে ফোন করেন তাহলে তাদের ফোনটাও তোলে না এরা । এই হচ্ছে বিজেপির আসল চেহারা । যারা নিজেদের দলের সৈনিক-কর্মীদের পরিবারকে চাকরি দিতে আট বছর কাটিয়ে দিল তারা, প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালন করতে পারেনি, আর যাইহোক তারা বলরামপুরের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জায়গায় নেই।”
বলরামপুরে জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “যাকে দাঁড় করিয়েছে তাকে দাঁড় করানোর ফলে আমি বিশ্বাস করি পাঁচ হাজার ভোট হলেও তৃণমূলের বাড়বে, কমবে না। জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।”




