বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের (election in Bengal) প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রথম দফা ভোটের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত বুধবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ফোন করে সমর্থনের বার্তা দেন আম আদমি পার্টির (AAP) প্রধান তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। এবার শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে প্রিয় ‘দিদি’র সমর্থনে কলকাতায় প্রচার করতে আসছেন কেজরি। দিল্লির আপ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, আগামী ২৬ এবং ২৭ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রচার করার কথা রয়েছে তাঁর। তৃণমূলের আমন্ত্রণেই কলকাতায় এসে প্রচার করবেন কেজরি এমনটাই জানা যাচ্ছে। তাঁর এই বার্তাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে মমতাকে ফোন করার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন কেজরি। বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এইমাত্র দিদির সঙ্গে কথা বললাম ফোনে। সম্পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছি। তিনি সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলির একটি লড়ছেন, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলির মধ্যে একটি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করে পরাজিত হবেন মোদিজি।’ বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট মিটতেই কেজরি এক্স হ্যান্ডেল নিজের মতামত জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, “শুনলাম যে পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর বিরুদ্ধে ভোট পড়ছে।“ এখানেই না থেমে আপ নেতা দাবি করেছেন, “মোদির এসআইআর মোদিরই বিরুদ্ধে গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফায় মোট ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় রেকর্ড ৯২.৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এত বিপুল হারে ভোটদানকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যা ও মতামত সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রথম দফাতেই তারা ১৩২ থেকে ১৩৫টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ১১০টি আসনে পদ্ম ফুটবে। তবে এই সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ৪ মে। ফল ঘোষণার দিনই স্পষ্ট হবে আসল চিত্র।
তৃণমূল ও আপ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দু’দিন কলকাতা-র একাধিক জনসভা ও প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন কেজরিওয়াল। ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় টালিগঞ্জ ফাঁড়িতে অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas) ও দেবাশিস কুমারের (Debasis Kumar) সমর্থনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তিনি। গত সপ্তাহেই বিরোধী দলগুলির একজোট সমর্থন না পেয়ে লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদি সরকারের পেশ করা মহিলা সংরক্ষণ বিল। যে বিলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। এই নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে পারেন কেজরিওয়াল—এমনটাই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।





