এবারের নির্বাচনে পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার ভবানীপুরের সভা থেকে সেই অভিযোগ আরও জোরাল করলেন তিনি। কটাক্ষ করে তিনি বললেন, “পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) যেন প্রেম করতে করতে যাচ্ছে!” এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বললেন, “এর পর তো পুলিশও বুঝবে যে, কী ভুল করলাম! কেন নাকা চেকিং করলাম না।”
রবিবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। এদিন সন্ধ্যায় গঙ্গাপ্রসাদ মুখার্জি রোড এবং পদ্মপুকুর রোডের সংযোগস্থলে সভা মমতার। সেখান থেকেই তিনি অভিযোগ করেন রাজ্যের পুলিশও নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছে। তাঁর কথায়, ‘‘খিদিরপুর দিয়ে আসছিলাম আমি। ২০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গটগট করতে যাচ্ছে। আর তাদের সঙ্গে একটা পুলিশ। যেন প্রেম করতে করতে যাচ্ছে। রাস্তা চেনাচ্ছে। আলিপুর দিয়ে ভবানীপুরে ঢোকাচ্ছে। আমি রাস্তাটাও দেখে এসেছি।’’
এরপরই রাজ্যে পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজকেও বেহালায় গুলি চালিয়েছে। গুন্ডামি করেছে। কারণ, পুলিশও ছেড়ে দিয়েছে। ওরা অন্য রাজ্য দিয়ে ঢুকে গিয়েছে। এর পর তো পুলিশও বুঝবে যে, কী ভুল করলাম! নাকা চেকিং করলাম না। বন্দুক ঢোকালাম। ড্রাগ ঢোকালাম। আজকে আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে, আপনারা চমকাচ্ছেন। যে দোষ করল আর যে দোষ করল না, দু’জনে এক হয়ে গেল? কেন অ্যালাও করলেন বন্দুক!’’এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের প্রতি তাঁর বার্তা, “এদিকে বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসে। বাস ঢুকিয়েছিল ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে। এদের ২৭ তারিখের পর… এই আউটসাইডারদের একজনকেও দেখতে না পাই। এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।”
বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বন্দুক পাঠিয়ে দিয়েছে। গুন্ডা পাঠিয়ে দিয়েছে। আর লোকাল থানার পুলিশকে বলছে, ওকে অ্যারেস্ট করো! কী করে করবে? কোর্টের অর্ডার আছে, ৩০ মে পর্যন্ত করতে পারবেন না। স্টে করা হয়েছে। আর যাঁরা এখন অ্যারেস্ট করছেন, ভবিষ্যতে তাঁরা অ্যারেস্ট হওয়ার কথা চিন্তা করবেন। পাপ বাপকে ছাড়ে না। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। কোথাও কোথাও এলাকায় বন্দুক নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমার অ্যাপয়েন্ট করা লোকগুলোকে এসআইআরের নাম করে সরিয়েছে। তার পর বর্ডার দিয়ে বন্দুক ঢুকিয়েছে। ড্রাগ ঢুকিয়েছে। তার পরে টাকা ঢুকিয়েছে। পুরো ওড়িশার বর্ডার দিয়ে ঢুকিয়েছে। বিহার বর্ডার ব্যবহার করেছে। আর যে পুলিশকে দিয়ে আমি নাকা চেকিং করাতাম, সে সব আর কিচ্ছু হয় না। বিজেপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে আর বলছে আমরা চোর! ডাকাতের সর্দার! অত্যাচারী!’’





