সোমবার আরামবাগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)নির্বাচনী সমাবেশে (West Bengal Assembly Election)যোগ দিতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। হামলার পিছনে সিপিএমের (CPIM) হার্মাদদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল। এই ঘটনার পর আহত সাংসদকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে দেখতে যান অভিষেক। এই ঘটনার প্রতিবাদ করে আরামবাগের সমাবেশ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সভা থেকে তৃণমূলের সাধারন সম্পাদকের হুঁশিয়ারি, “খেলা ওরা শুরু করেছে মিতালির ওপর আক্রমণ করে , ফিনিশিং টাচ দেব আমি। “
এদিনের সভার শুরু থেকেই এই ঘটনার নিন্দায় সরব হন অভিষেক। তিনি ক্ষোভ উগরে বলেন, “আমি হঠাৎ খবর পেলাম আমাদের সাংসদ মিতালি বাগ, একজন তফসিলি জনজাতি মহিলা, তার ওপর সিপিএম-এর হার্মাদরা চড়াও হয়েছে, বাঁশ দিয়ে তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে দিয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাচের টুকরো ঢুকে হাতে, পায়ে, কোমরে চোট লেগেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি। আমি তাঁকে দেখতে গেছিলাম। মিতালিকে জিজ্ঞাসা করেছি হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পেরেছে কিনা। ওর অবস্থা এমনই খারাপ। ও আমায় কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু আমার নজর সবার ওপর রয়েছে। যারা ভাবছে মিতালির ওপর কারা চড়াও হয়েছিল আমরা জানি না , তাদের বলি- সোমাশ্রী, তার স্বামী, দোলন আর সৌমেন পাল- এই চারজন প্রাথমিকভাবে যুক্ত – আমার কাছে খবর রয়েছে। আরও যারা যুক্ত তাদের সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে বেছে বেছে বার করব।” এরপরই অভিযুক্তদের উদ্দেশে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “একজন তফসিলি মহিলার গায়ে যারা হাত দিয়েছে ৪ তারিখ তৃণমূল জিতুক বা হারুক, এবার আমি নিজে দায়িত্বে থাকব। ৪ তারিখ বেলা ১২টার পর কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা আর কার দিল্লির বাবা বাঁচাতে আসে আমি দেখব।” তাঁর সতর্কবার্তা “যারা আজকের এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের জীবনে আগামীদিনে কঠিন সময় আসছে। সতর্ক করে গেলাম। আমি মমতা বন্দ্যোপাধায়ের মতো অতো উদার নই। ওরা যখন মিতালিকে আক্রমণ করে খেলা শুরু করেছে, শেষটা এবার আমি করব।”
একই সঙ্গে এদিনের সভা থেকে তিনি সিপিএম-এর বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, যারা একসময় সিপিএমের হার্মাদ ছিল তারাই আজ জামা বদলে বিজেপি করছে। তিনি বলেন, “সিপিএমের অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসু আজ বিজেপির নেতা হয়েছে। যাদের আগামী ২০ বছর ঘরের কোণে মুখ লুকিয়ে বসে থাকার কথা তারাই আজ পদ্মের নেতা হয়ে কাস্তে চালাচ্ছে। এদের ভোট দেওয়া মানে আগামী পাঁচ বছর সিপিএমের এই হার্মাদরা ভয় দেখাবে।” সাধারন মানুষের প্রতি তাঁর বার্তা “মাথা উঁচু করে ভয়কে জয় করতে হবে।”
আরামবাগে তৃণমুল জয়লাভ করলে আগামী দিনে আরামবাগ আলাদা জেলা হবে বলেও এদিন ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক।




