Header AD

মজার ছলে ‘প্রেগন্যান্ট’ বলা যায়? প্রশ্ন দিতিপ্রিয়ার, ‘ভিকটিম কার্ড খেলাটা…’, দিতিপ্রিয়াকে পাল্টা খোঁচা জীতুর! দেখালেন কথোপকথনের স্ক্রিনশটও

জি বাংলার পর্দায় জিতু- দিতিপ্রিয়াকে অপু- আর্য্য হিসাবে দেখেই অভ্যস্ত দর্শক। এই জুটির বেশ কিছু রোম্যান্টিক ছবি নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর চর্চা চলছে। সেই ছবি নিয়ে জিতুর কিছু মন্তব্যের কিরণে বিতর্ক আরও বেড়ে যায়। এরই মাঝে সোমবার রাতে হঠাৎ মুখ খলেন দিতিপ্রিয়া। নাম না করে সহ অভিনেতার বিরুদ্ধে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। যার পর থেকেই রীতিমতো ঢি ঢি পড়ে গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন দিতিপ্রিয়া। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবার প্রকাশ্যে চলে এলো জীতু কমল এবং দিতিপ্রিয়া রায়ের ব্যক্তিগত কথোপকথন। সোমবার রাতে সমাজমাধ্যমের পাতায় নাম না করে সহ-অভিনেতার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী। তার পরেই পাল্টা পোস্ট নায়কের। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা জীতু কমল।এদিন সোশাল মিডিয়ায় এই নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে জীতু লেখেন, ‘নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমি কখনোই সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনরকম মতামত দিই না। কিন্তু এটা তো নিছক ব্যক্তিগত নয়। এটা পেশাগত একটা ছোট্ট থেকে ছোট্টতর সমস্যা। ছোট্ট থেকে ছোট্টতর কেন বললাম? কারণ একটা ছোট্ট মেয়ে,বাচ্চা মেয়ে। যে কাজটা করে ফেলেছে,সে নিজেও হয়তো জানেনা যা করেছে সেটা কতটা গভীর। রাখাল যেদিন সত্যি মানুষখেকো বাঘের মুখে পড়বে সেদিন কেউ সেটা বিশ্বাস করবে না।” তবুও ছোট তো একটু স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে মার্জনা করবেন। আমি সামনাসামনি কথা বলি না।সত্য কথা। আমি স্টুডিওতে গিয়ে নিজের কাজ ছাড়া অন্য কোন বিষয় নিয়ে চর্চা করি না।সত্য কথা। আমি হোয়াটসঅ্যাপে ওর সঙ্গে কথা বলি সত্য কথা। কিন্তু,কী কথা বলি সেটাই নিয়েই তো প্রশ্ন! এই নিন।(নিজের বাবা-মার সম্মানার্থে আমি সবার সামনে আনতে বাধ্য হলাম।) আমি সবটা আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম, যদি বলেন ভুল, সরাসরি বলবেন আমি নিজেকে পাল্টে নেবো।’জীতু আরও লেখেন, ‘তবে বাচ্চা মেয়েটির ফোন নাম্বারটা ঝাপসা করলাম। হাজারও হোক মেয়েটি বিপদে পড়তে পারে,তার ফোনটা অফ করে দিতে হতে পারে, সেটা সিনিয়র হিসেবে দেখাটা আমারই কর্তব্য। সর্বশেষে বলি,’ভিকটিম কার্ড’ খেলাটা আমাদের সমাজে প্রথম নয়। অনেক উদাহরণ আছে কিন্তু এই মেয়েটির কোনও দোষ নেই, এই মেয়েটি নিরপরাধ। এই মেয়েটিকে পেছন থেকে প্রবঞ্চনা দেওয়া হচ্ছে। যারা দিচ্ছে তারা কিন্তু এই মেয়েটির বিপদের সময় পাশে দাঁড়াবে না। প্লিজ মেয়েটিকে মেয়েটির পথে থাকতে দিন। কাজ করতে দিন। মেয়েটি ভালো।শিক্ষিত মেয়ে। হ্যাঁ,একটু অপরিণত, আর নিজের প্রেমিকের জন্য জীবনটুকু পর্যন্ত দিতে পারে। আর প্রেমিক মহাশয়কে বলছি এনাকে যত্ন করে রাখবেন প্লিজ হাতছাড়া করবেন না,আপনি রত্ন পেয়েছেন।’ এরপর দিতিপ্রিয়া বললেন, “আমি শেষ পর্যন্ত সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। চেষ্টা করেছিলাম ব্যক্তিগত স্তরেই যাতে থাকে ব্যাপারটা। কিন্তু আমাদের কথোপকথন এভাবে প্রকাশ্যে আসার পর তো আর কিছু বাকি থাকে না। তবে উনি যে স্ক্রিনশটটা ভাগ করেছেন তাতে স্পষ্ট যে আমি কোনও মিথ্যাচার করিনি। মজার ছলে কেউ কাউকে ‘প্রেগন্যান্ট’ কিনা প্রশ্ন করতে পারে! আর তো আমার কোনও বাধা রইল না। আমিও সবটাই প্রকাশ্যে বলতে পারি।” এই বিতর্কের মাঝেই ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জিতু এবং দিতিপ্রিয়া এরপর আদৌ একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হবেন কিনা তার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে কি ধারাবাহিক চিরদিনই তুমি যে আমার বন্ধ হয়ে যাবে?শোনা যাচ্ছে, এরই মধ্যে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজনা সংস্থার মিটিং হয়েছে। এই সমস্যা চলতে থাকলে অভিনেত্রী ধারাবাহিক ছাড়তেও নাকি রাজি। তিনি নিজের ‘ এনওসি’ তৈরি করে রেখেছেন বলেই খবর। সূত্র বলছে, প্রযোজনা সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। জীতুর পোস্টের পর কী পদক্ষেপ করবেন অভিনেত্রী? তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি।