Header AD

‘বাংলায় বাংলা সিনেমাই প্রাধান্য পাবে’, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠকে খুশি টলিপাড়া

হিন্দি ছবির দাপটে কোণঠাসা বাংলা ছবি! বহু বছর ধরে এই সমস্যায় জর্জরিত টলিপাড়া। কিন্তু সমাধানের উপায় কী? বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও কম হয়নি। সুরাহার পথ খুঁজতে টলিপাড়ার সদস্যরা চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।অবশেষে সুরাহার পথ খুঁজতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন টলিপাড়ার তারকারা। বৃহস্পতিবার মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়েছিল টলিউড। বৃহস্পতিবার নন্দনে টলিপাড়ার তাবড় প্রযোজক, পরিচালকরা একজোট হয়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।মেগাবাজেট হিন্দি সিনেমার গুঁতোয় কখনও ভালো ব্যবসা করা বাংলা ছবিকে হল থেকে উৎখাত করা হয়েছে, আবার কখনও বা ব্যবসার স্বার্থে বাংলা সিনেমার শো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মারাত্মক হারে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলার ছবির ক্যাশবাক্সে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে যখন বাঙালি অস্মিতায় শান দেওয়া হচ্ছে, তখন সেই আবহেই বাংলা সিনেমাকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন টলিউডের পরিচালক-প্রযোজকরা।এবার ‘No Show Sharing’- এর প্রতিবাদে এককাট্টা টলিউড। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন বৈঠক ডাকেন অরূপ বিশ্বাস। নির্ধারিত সময়ে মিটিংয়ে যোগ দেন দেব, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিং রানে, রানা সরকার প্রমুখ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তও। কি সিদ্ধান্ত হল বৈঠকে? বৈঠক শেষে মন্ত্রীর আশ্বাস, “ঘরের আলোচনা বাইরে বলা সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা ইতিবাচক। বাংলা ছবিকে নিজের রাজ্যে কোণঠাসা হয়ে থাকতে হবে না। হিন্দি ছবির সমান সংখ্যক হল পাবে বাংলা ছবি।” বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। দেব জানালেন, “বাংলায় বাংলা সিনেমা চলবে না, সেটা তো অত্যন্ত দুঃখজনক। খুব ইতিবাচক বৈঠক হল। এবং সবকটা হলকে একটা শোতে হলেও বাংলা সিনেমা চালাতে হবে, তেমনটাই আলোচনা হল। পরিবেশক, হল মালিকদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এবং সকলেই একমত যে বাংলায় বাংলা সিনেমা চলবে।” একইসঙ্গে তিনি বললেন “শুধু ‘ধূমকেতু’ নয়। সমস্ত বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ ভেবে এই বৈঠক। যা অত্যন্ত ইতিবাচক। অরূপদা আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। আশা, ভাল কিছু হতে চলেছে।”একই কথা শোনা গেল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখেও, “নিজের রাজ্যেই একঘরে হয়ে রয়েছে বাংলা ছবি, এ কথা মানতে কষ্ট হয় সকলের। সেই জায়গা থেকেই সকলে একজোট। মনে হচ্ছে এই বৈঠক বাংলা ছবির পক্ষে যাবে।”যখনই বাংলায় বড় বাজেটের হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছে, ভাল প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শন সময় হারিয়েছে বাংলা ছবি। সে কথা এ দিন আরও একবার মনে করালেন ঋতুপর্ণা। অভিনেত্রী-প্রযোজক বলেন, “আমার ছবি এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রযোজক মাথা চাপড়ে বলেছেন, ‘এ ভাবে কী করে ছবি বানাব?’ ক্রমাগত এটা চলতে থাকলে বাংলায় কাজের আগ্রহ হারাবেন বাংলার বাইরে থেকে আসা প্রযোজক, পরিচালকেরা।”