শোভন- রত্নার বিবাহবিচ্ছেদের মামলা খারিজ করে দিয়েছে আলিপুর আদালত।একই সঙ্গে রত্নার পক্ষ থেকে করা সংসার টিকিয়ে রাখার আবেদনও আদালত বাতিল করেছে। এই রায়ের জেরে একদিকে শোভন যেমন বিবাহবিচ্ছিন্ন হলেন না। অন্যদিকে আবার রত্নাও তাঁর স্বামীর সঙ্গে একত্রবাসের সুযোগ পেলেন না। তবে শোভনের আইনত স্ত্রী হিসাবেই রত্নার নামই থাকছে। উলটোদিকে প্রাক্তন মহানাগরিক শোভনের জীবনেও চলতি স্থিতাবস্থা বজায় রইল। তিনি যেমন ‘বান্ধবী’ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গোলপার্কের বহুতল আবাসনে থাকেন, তেমনই থাকতে পারবেন। গোলপার্কের আবাসনে বৈশাখীর সঙ্গে যেখানে তিনি থাকছেন সেখানে যে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না তা এদিন রায়ের পরেও স্পষ্ট করেছেন শোভন। বলেছেন, ‘‘বৈশাখীর সঙ্গে যে সম্পর্কে ছিলাম, সেই সম্পর্কেই থাকব। বৈশাখীর আর আমার সম্পর্ক হল হৃদয়ের সম্পর্ক। আমরা একসঙ্গেই রয়েছি, একসঙ্গেই থাকব। এই সম্পর্কের উপরে কোনও আঘাত আমি আসতে দেব না।’’ অন্যদিকে, রত্না চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, “আট বছর ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছি আমার সন্তানদের জন্য। আজকের রায় সমাজের জন্য বড় বার্তা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলারা যে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন, আমি তারই দৃষ্টান্ত।” দম্পতির ছেলে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজকের সিদ্ধান্ত শুধু আমার মায়ের জয় নয়, বাংলার ও দেশের বহু নারীর লড়াইকে অনুপ্রেরণা দেবে। বাবাকে বলছি, এখনও দেরি হয়নি, ফিরে আসুন। তবে শোভন ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যাবেন তিনি। এরপরই রত্নার পাল্টা জবাব‘‘উনি যত দূর খুশি যান, আমিও যেতে প্রস্তুত আছি। একবার সুপ্রিম কোর্ট ঘুরিয়ে এনেছি, আবার যেখানে উনি মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে যাবেন, আমিও আইনি পথেই সেখানেই যাব, সব মিথ্যার জবাব দেব।’’২০১৭ সালে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। রত্নার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর আচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলে আদালতে আবেদন জানান তিনি। শুনানিতে সওয়াল-পালটা সওয়ালের জেরে হাই কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিল সেই মামলা। শোভনের হয়ে হাইকোর্টে শুনানির শেষ পর্বে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পরে তা ফিরে আসে নিম্ন আদালতে। এদিন আলিপুর আদালতে আটবছর ধরে দীর্ঘ শুনানি শেষে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ হওয়ায় উচ্চআদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শোভন। এদিনের রায়ের কপি হাতে না পেলেও রত্নার সঙ্গে তাঁর ‘সম্পর্ক’-এর যে ‘আইনগত বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে, তা কাটাতে আইনজীবীদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন। শোভনের কথায়, ‘‘যা পদক্ষেপ করতে হয়, অবশ্যই তা করব। যত দূর যেতে হয়, তত দূরই যাব। কোনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রাখব না।’’ শোভনের আর্জি খারিজে আদালতের রায়কে নিজের জয় হিসাবেই দেখছেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না। তাঁর এই জয়কে ব্যক্তিগত পরিসর থেকে সামাজিক বৃত্তে এনে ফেলেছেন রত্না।





