সোমবারের পর মঙ্গলবারেও জ্বলছে নেপাল। সোমবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে যেভাবে তরুণ প্রজন্ম বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল, তাতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পর নেপালেও গণঅভুত্থান হওয়ার একটা আশঙ্কা ছিলই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের পর থেকেই অস্বস্তি বাড়তে থাকে ওলি সরকারের। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত একুশ জনের মৃত্যু এবং আড়াইশোর বেশি মানুষের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তড়িঘড়ি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়। এরপরই সমাজমাধ্যম থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা করে নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাতে যে ক্ষুব্ধ জনতা শান্ত হয়নি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল মঙ্গলবার। রাজপথে কাতারে কাতারে মানুষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে লাগাতার ইটবৃষ্টি। কম্যুনিস্ট পার্টির দফতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হল। আন্দোলনকারীদের দখলে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের বাড়ি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পদত্যাগের অনুরোধ সেনার। তারপরই পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী। কাঠমান্ডু বিমান বন্দরে বন্ধ করে দেওয়া হল আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা। পড়শি দেশে অসন্তোষ নিয়ে সতর্ক ভারত। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে, জানাল বিদেশমন্ত্রক।
যদিও এই সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হয়েছিল তাতে কোনও ভুল ছিল না বলেও মন্তব্য করেছেন নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই, তবে এবার সার্বভৌমত্বের নামে মানুষের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়া ‘স্বৈরাচারী ‘ বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে গর্জে উঠেছে, সংসদ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে তাতে ভয় পেয়েছে নেপালের শাসক দল। তাই মাথা নিচু করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। কার্যত ‘জেন জি’ কাছে নতিস্বীকার করতে হল ওলি প্রশাসনকে। আগামী পনেরো দিনের মধ্যেই হিংসার ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে। কিন্তু সেই সময় আদৌ তারা পাবে কি না, বা তার প্রয়োজন পড়বে কি না সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।





