শনিবার রাতের বৃষ্টিতে ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে পড়ে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। দুর্যোগের পর কেটে গিয়েছে তিন দিন। নতুন করে আর বৃষ্টি না-হওয়ায় বিপর্যস্ত এলাকার পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। তবে ধসের কারণে এখনও পাহাড়ের বহু রাস্তাই বন্ধ। ঘুরপথেই চলছে যাতায়াত। ভাঙা সেতু মেরামতিও চলছে। কবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে পাহাড়? কত দিনে আবার পাহাড়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।নতুন করে দুর্যোগের শঙ্কা কাটিয়ে দার্জিলিং আবার নিজের পুরনো রূপে ফিরছে ধীরে ধীরে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা তেমন নেই। মাঝেমধ্যেই মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘাও। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দার্জিলিঙে আটকে থাকা পর্যটকেরা ফিরতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবারও অনেকেই নেমেছেন। প্রায় সব পর্যটককেই নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে উৎকণ্ঠার মেঘ এখনও কাটেনি।
শনিবার রাতের বৃষ্টিতে দার্জিলিঙের বিভিন্ন এলাকায় ধস নামে। জলমগ্ন হয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তবে রবিবার থেকে বৃষ্টি না-হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যদিও দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ এখনও অনেকেই। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
রবিবার রোহিণী রোড সাময়িক ভাবে খোলা ছিল। তবে সোমবার সকাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে। দুধিয়ায় সেতু ভেঙে যাওয়ায় মিরিকের রাস্তাও আপাতত আংশিক বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুধিয়ার সেই সেতু পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেরামতির কাজ খতিয়ে দেখেন তিনি। আপাতত, একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করছে প্রশাসন। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওই সেতু তৈরি হবে যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সেতু তৈরি হলে দার্জিলিঙের যাওয়া-আসার সুবিধা হবে। যদিও এখন ঘুরপথে দার্জিলিঙে যাতায়াত চলছে।
দার্জিলিং থেকে সমতলে নামার জন্য হিল কার্ট রোড এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড খোলা থাকার কথা জানানো হয়েছিল সোমবারই। অন্য দিকে, সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিলিগুড়ির সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে যাত্রিবাহী বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।





