Header AD

ভারতেও তালিবানি ফতোয়া! আফগান  বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ, দায় এড়াল কেন্দ্র

 দিল্লির আফগান দূতাবাসে তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হল না। এই তালিবানি ফতোয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকে তোলপাড় শুরু হয়েছে দিল্লির রাজনীতিতে । তালিবানের কট্টরপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন একাধিক মহিলা সাংবাদিক। বিতর্কের মুখে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, “বিষয়টিতে তাদের কোনও হাত নেই।“

আট দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ভারতে এসেছেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার দিল্লির আফগান দূতাবাসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। কিন্তু ওই সাংবাদিক বৈঠকে কোনও মহিলা সাংবাদিককে দেখা যায়নি। যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই পুরুষ। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মহিলা সাংবাদিকদের সেখানে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হন অনেক সাংবাদিকরা। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। সুর চড়ায় কংগ্রেস। তালিবানি চাপের মুখে ভারত এই বিষয়ে নীরব রইল কি না, প্রশ্ন ওঠে তা নিয়েও।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে কট্টর মৌলবাদী সরকার। সেখানকার মহিলারা একা রাস্তায় বেরতে পারেন না। মেয়েদের স্কুল কিংবা উচ্চশিক্ষায় দাঁড়ি টানা হয়েছে। বাইরে কাজ করার অধিকার কেড়ে নিয়ে মহিলাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। এহেন কট্টর মৌলবাদের দেশের প্রতিনিধিকে প্রসন্ন করতে দিল্লিতে মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকে মহিলাদের প্রবেশ করতে না দেওয়া শুধু তালিবানের নারী বিদ্বেষকে সমর্থন যোগানো নয়, খোদ কেন্দ্রের তরফে ভারতীয় মহিলাদের ‘অপমান’ বলে অভিযোগ উঠছে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন খোদ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “মাননীয় মোদী, প্রকাশ্য মঞ্চে  মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে দেওয়া হল। যার অর্থ ভারতের প্রত্যেক মহিলাকে এটাই বললেন যে আপনি তাঁদের হয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ।” কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাও সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই ঘটনা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। তিনি লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি, তালিবান প্রতিনিধির ভারত সফরে সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হল না। এই বিষয়ে দয়া করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন।’’ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম জানান, মহিলা সহকর্মীদের না-দেখতে পেয়ে পুরুষ সাংবাদিকদের ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার কাবুলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় দূতাবাস চালু করার কথা ঘোষণা করেন জয়শঙ্কর। অনেকের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবান শাসকদের বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষিতে নতুন পন্থা অবলম্বন করতে চলেছে ভারত। ‘শত্রুর শত্রু আমার মিত্র’— এই পথে হেঁটে ইসলামাবাদকে ‘চাপে’ রাখতে চায় নয়াদিল্লি।সেই কারণেই ভারত সরকারের এই নীরবতা কি না তা নিয়েও জল্পনা চলছে।