Header AD

১০০ দিনের কাজে সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা কেন্দ্রের! ‘বাংলা বিরোধীদের গালে গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ বললেন অভিষেক

সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা খেল কেন্দ্র। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায় বহাল রাখল শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রের আবেদন খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে ১০০ দিনের বকেয়া কাজের টাকা দিতে হবে মোদি সরকারকে। এর ফলে বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগেই ফের ১০০ দিনের কাজ চালু হতে চলেছে, যা নিঃসন্দেহে বড় জয় রাজ্য সরকারের।  বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে ১০০ দিনের টাকা দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “এই রায় বহিরাগত বাংলা বিরোধী জমিদারদের আরও একটি শোচনীয় হার।“ 

গত তিনবছর ধরেই মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্ম প্রকল্পের অধীনে দিনমজুরির কাজের অর্থ পাচ্ছে না বাংলা। এই নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একাধিকবার সোচ্চার হয়েছে। দিল্লির দরবারে গিয়েও দাবি পেশ করেছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু জনমুখী প্রকল্প চালু রাখার স্বার্থে তৃণমূলের যাবতীয় প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ করেছে কেন্দ্রের একগুঁয়েমি। যদিও কেন্দ্রের এহেন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। দীর্ঘ শুনানিতে ১০০ দিনের কাজ চালু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। এনিয়ে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তাতে যথেষ্ট ভর্ৎসনা করেই হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, আমজনতার কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু তাই নয়, আগস্ট থেকেই ১০০ দিনের কাজ চালু করতে হবে বলে নির্দেশে জানায় হাই কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্র। সেই আবেদনই সোমবার খারিজ করে দিল বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ।  

এই রায়কে বাংলার মানুষের ঐতিহাসিক জয় বলে উল্লেখ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ দিল্লির ঔদ্ধত্য আর অবিচারের কাছে মাথানত করবে না বাংলা। রাজনৈতিকভাবে আমাদের সঙ্গে পেরে না ওঠায় বঞ্চিত করাকেই অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে বিজেপি। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাকে অবরুদ্ধ করে দিতে চাইছে। দরিদ্র মানুষের রুজি-রোজগার ছিনিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু আমরা হার মানব না। ন্যায়ের জন্য লড়াই করব। যারা মনে করে বাংলাকে চুপ করিয়ে রাখা যায়, আজকের রায় তাদের গালে গণতন্ত্রের থাপ্পড়। ওরা বাংলা থেকে নেয় অথচ বকেয়া মেটায় না। এবার তারা মানুষের ভোটেও হেরেছে, সুপ্রিম কোর্টেও হেরেছে।”