Header AD

মঙ্গলবার থেকে SIR চালু বাংলা সহ ১২ রাজ্যে, ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

দ্বিতীয় দফায় আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই বাংলা সহ ১২ টি রাজ্যে শুরু হচ্ছে এস আই আর (SIR) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ। এর সঙ্গে এস আই আর হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতেও। উল্লেখ্য সোমবার রাত বারোটা থেকেই ফ্রিজ করা হচ্ছে ভোটার তালিকা। সোমবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার।

এদিন কমিশনের তরফে জানানো হল যে, দ্বিতীয় পর্বে SIR হবে বাংলা, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি এবং আন্দামান নিকোবরে। অসমের এনআরসি প্রায় শেষের পথে। সেখানের নিজস্ব বিধানও রয়েছে। তাই সেখানে হচ্ছে না SIR। জ্ঞানেশ কুমার আরও জানিয়েছেন, এই বিরাট কর্মযজ্ঞে প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি BLO কাজে যোগ দেবেন।

কমিশন এদিন জানিয়েছে, SIR -এর জন্য মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা ও বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। যা চলবে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেওয়া হবে। কেউ রাজ্যের বাইরে থাকলে বা প্রবাসীরা অনলাইনেও ফর্ম ভরতে পারবেন। অন্যদিকে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে অভিযোগ জানাতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এসআইআর এর কাজে প্রত্যেক বিএলও তিনবার করে যাবেন নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি। এর পাশাপাশি নিরক্ষর ভোটারদের ফর্ম ফিলাপ করতে সাহায্য করবেন BLO-রা।

জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ২০০২ সালের সূচিতে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের আর কোনও নথি দিতে হবে না। এক্ষেত্রে যদি বাবা-মায়ের নাম থাকে, তা হলেও আর কাগজ দিতে হবে না। কমিশনের সাইটে গিয়ে এই ‘ম্যাচিং’ ভোটারেরা নিজেরাই করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর কাজ ভালো হয়েছে বলেও সাংবাদিক বৈঠকে জানায় কমিশন।

প্রসঙ্গত কমিশন জানিয়েছে, তিন ধাপে হবে এসআইআর প্রক্রিয়া— বিএলও, ইআরও এবং অন্যান্য আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ হবে। তার পরে আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। শেষে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথা বলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হবে। এর পরে এনুমারেশন-পর্ব। সেখানে ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ এবং মিলিয়ে দেখার কাজ চলবে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১২০০ ভোটারের সীমানা মানা হবে।

ফর্মের কাজ মিটে গেলে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাঁদের নাম মেলেনি, তাঁদের নোটিশ পাঠানো হবে। কারও কোনও দাবি এবং আপত্তি থাকলে তার শুনানি হবে। সব ঠিকঠাক হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া যে সব রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করবেন কর্মীরা।