আলোর শহর চন্দননগরে মা হৈমন্তির আরাধনার মাঝেই ঘটল বিপত্তি। ভেঙে পড়ল মা জগদ্ধাত্রীর সবচেয়ে বড় প্রতিমা! ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগরের কানাইলাল পল্লি এলাকায়। হাওয়ার দাপটে আচমকাই মণ্ডপের সামনের দিকের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তড়িঘড়ী মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। খবর পেয়ে
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এছাড়াও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান চন্দননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মন্থা শক্তি বাড়িয়ে ক্রমশ স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই আবহাওয়া দপ্তর অন্ধ্রপ্রদেশে ওই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে বলে জানিয়েছে। তবে সরাসরি এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও বাংলার উপকূল এলাকা ও উত্তরবঙ্গে মন্থার প্রভাব পড়বে বলে জানা যাচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি হবে বলে খবর। সেই মন্থার প্রভাবেই এই দমকা হওয়া ও তার ফলে এই বিপত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।
জগদ্ধাত্রী পুজো ও আলোকসজ্জার জন্য চন্দননগরের খ্যাতি আকাশ ছোঁয়া। মঙ্গলবার জগদ্ধাত্রী পুজোর সপ্তমী। স্বাভাবিকভাবেই মণ্ডপ, প্রতিমা দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেছিলেন দর্শনার্থীরা। তার মাঝেই ঘটল এই দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে আবহাওয়া খানিকটা বদলাতে শুরু করে। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে চলে কয়েক পশলা বৃষ্টিও। চন্দননগরের অন্যতম খ্যাতনামা পুজো মণ্ডপ গুলির মধ্যে অন্যতম কানাইলালপল্লি। এবার এই মণ্ডপ ৭৫ ফুটের ফাইবারের জগদ্ধাত্রীর মূর্তি তৈরি করেছিল। প্রচার করা হয়েছিল চন্দননগরের সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী হিসেবে। এই পুজো মণ্ডপ দেখতে ভিড়ও ছিল স্বাভাবিকভাবেই প্রবল। মঙ্গলবার দুপুরের পর হাওয়ার দাপটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ওই বিশাল বড় মূর্তি। এছাড়াও, ভেঙে পড়ে মণ্ডপের একাংশ।
যখন দুর্ঘটনাটি ঘটে সেই সময় মন্ডপ প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন অনেক দর্শনার্থী। হঠাৎ মূর্তি ও মণ্ডপের একাংশ ভেঙে যায় হুড়মুড়িয়ে। সাত জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেঙে পড়া মণ্ডপের নিচে কেউ আটকে পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন ওই পুজো মণ্ডপ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “দুপুরের দিকে ঝোড়ো হাওয়ায় কানাইলাল পল্লির মণ্ডপ ভেঙে যায়। কপাল ভালো কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। যদিও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ, দমকল, সিভিল ডিফেন্স, কর্পোরেশনের তৎপরতায় তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামলানো গিয়েছে। ভিতরে কেউ ছিলেন না।” আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলেন, “ পুজো প্রতিযোগিতার বিচারকের কাজ করতে গিয়েছিলাম আমরা। হঠাৎ দেখি হাওয়া দিচ্ছে। আমরা আবার বললাম, আপনাদের মণ্ডপ ঠিক আছে তো? বলতে বলতে দেখি প্যান্ডেল হেলে যাচ্ছে। আমরা তো প্রাণপণে ছুট লাগাই। অত বড় স্ট্রাকচার। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।”





