Header AD

SIR-এর কাজে বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি শুরু বিএলও-দের, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ ডিসেম্বর

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া বা এসআইআর নিয়ে আমজনতার মনে হাজার আশঙ্কা, উদ্বেগ। মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। এই আবহেই মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএলও-রা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাম যাচাই করে এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শুরু করেছেন। এদিকে, এসআইআরে যাতে একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, সেই দাবি বরাবর করেছে তৃণমূল। রাজ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআর আতঙ্কের অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অযথা মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে পথে প্রতিবাদে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, ফর্ম বিলির কাজ চলবে আগামী একমাস অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই একমাসের মধ্যে ফর্মপূরণের কাজও হবে। তার ভিত্তিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। তারপরই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে বলে খবর।

গত ২৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন বাংলাসহ ১২ রাজ্যে এসআইআর-এর দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। ২৮ অক্টোবর থেকে বিএলও-দের প্রশিক্ষণ চলেছে। প্রশিক্ষণ পর্বেই তাঁরা দাবি তুলেছেন, ফর্ম বিলি ও সমীক্ষার কাজে তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিলে কাজ করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সুরক্ষা-সহ তিনদফা দাবি তাঁরা জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। যদিও সেসব দাবি খারিজ করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নিরাপত্তা তথা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখার দায়িত্ব পুরোপুরি রাজ্যের। ফলে জনবিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে, এমন চিন্তা নিয়েই মঙ্গলবার বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলির কাজ শুরু করেছেন বিএলও-রা। খবর, ইতিমধ্যেই পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে কাজ না করেই ফিরে যেতে হয়েছে বিএলও-দের। ২০০২ সালে এসআইআরের নিরিখে ভোটার তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে চলবে এর পরবর্তী ধাপ।

ফর্ম বিলির পর সেই ফর্ম ভোটারদের বাড়ি থেকে সংগ্রহের দায়িত্বও বিএলও-দের। এই কাজে তাঁদের সাহায্য করবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিএলএ অর্থাৎ বুথ স্তরের এজেন্টরা। তাঁদেরও আলাদা করে দলের তরফে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিএলএ-দের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন । এসআইআরের কাজ স্বচ্ছভাবে করতে বিএলও-দের এক মুহূর্তও যেন চোখের আড়াল না করা হয়, বিএলএ-দের সেই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া তৃণমূলের তরফে পঞ্চায়েত, পুরএলাকাগুলিতে মোট ৬২০০ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হচ্ছে মঙ্গলবার থেকেই। এই কেন্দ্রগুলিতে এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করতে আমজনতাকে সাহায্য করবেন দলীয় কর্মীরা। উদ্দেশ্য একটাই, একচুল ভুলেও যেন কোনও বৈধ ভোটারের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়ে।