দীর্ঘ কয়েক যুগ পর এবার সম্ভবত আন্দোলন শেষ হতে চলেছে। মাওবাদী নেতা মাদভি হিদমার মৃত্যুর পরই আন্দোলন কার্যত সমাপ্তির পথে। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে মাওবাদী সংগঠনের পাঠানো চিঠিতে অন্তত পাওয়া গেল তেমনই ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ এই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে মাওবাদী সংগঠন জানিয়েছে, আগামী তিনমাসের মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন তাঁরা। সেই সুযোগ দিয়ে আপাতত জঙ্গলে যৌথবাহিনীর মাওবাদী অভিযান বন্ধ রাখা হোক। হিদমার মৃত্যুর পর যথাযোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই হয়তো আন্দোলনে ইতি টেনে আত্মসমর্পণের পথে হাঁটতে চাইছে মাওবাদীরা বলেই আপাতভাবে মনে করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ সরকার সূত্রে খবর, তিন মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, বিষ্ণুদেও সাই ও মোহন যাদব সিপিআই (মাওবাদী)-এর স্পেশাল জোনাল কমিটির তরফে চিঠি পেয়েছেন। ২২ নভেম্বর অর্থাৎ গত শনিবারের দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে অনন্ত নামে সিপিআই (মাওবাদী)-এর স্পেশাল জোনাল কমিটির মুখপাত্রের। তাতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাওবাদী দমনে সরকারি অভিযান স্থগিত রাখা হোক। ওই সময়ের মধ্যে তাঁরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করবে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে রাজি আমরা। অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে আগ্রহী। কিন্তু অনুরোধ, আমাদের একটু সময় দেওয়া হোক। দলের নীতি মেনে একসঙ্গে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় লাগবে। ততদিন (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) পর্যন্ত এই তিন রাজ্যের জঙ্গলে জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযান বন্ধ থাকুক। সময়টা হয়তো দীর্ঘ, তবে কেন্দ্রীয় সরকার তো মাওবাদী মুক্ত করার ডেডলাইন স্থির করেছে ৩১ মার্চ, ২০২৬। তার মধ্যেই আমরা আত্মসমর্পণ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছি। কথা দিচ্ছি, আমরা এবার আর PLGA (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি) সপ্তাহ পালন করব না। কিন্তু ততদিন আমাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযান যাতে না হয়, তার অনুরোধ রইল। এমনকী গোপন সূত্রের ভিত্তিতেও জঙ্গলে কোনও অভিযান করা যাবে না। পাশাপাশি ইনফরমারদেরও তথ্য আদানপ্রদানের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।”
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ডিসেম্বরের ২ থেকে ৮ তারিখ মাওবাদীরা দেশজুড়ে গেরিলা বিপ্লব সপ্তাহ পালন করে । এই সময় মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে তাদের সক্রিয়তা বাড়ে। তবে এবার তিন রাজ্যে আত্মসমর্পণের প্রাক শর্ত হিসেবে তারা ওই সপ্তাহ পালন করবে না বলেই জানিয়েছে। মাওবাদী সংগঠনের এই চিঠি কেন্দ্রের মাওবাদ-বিরোধী নীতির বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জল-জঙ্গল-মাটির অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, তা দিনে দিনে গণবিরোধী হয়ে ওঠায় সমর্থন হারায় এবং শক্তিহীন হয়ে পড়ে।





