বিএলওদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির পুরনো একটি বিজ্ঞপ্তি নতুনভাবে জারি করে রাজনৈতিকভাবে চমক দিতে চেয়েছিল বিজেপির আইটি সেল। কিন্তু এর মধ্যেই এসআইআর-এর লাগামছাড়া কাজের চাপে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে বিএলওরা। এই পরিস্থিতিতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএলও, ইআরও-দের বর্ধিত ভাতা এখনো পর্যন্ত আটকে রেখেছে রাজ্য সরকার। তারপরেও ভাতা বৃদ্ধির পুরনো সেই বিজ্ঞপ্তি নতুন করে প্রকাশ করা হয়েছে। এই নিয়েই শনিবার বিজেপি ও কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)।
তিনি অভিযোগ তোলেন, ‘ওই বিজ্ঞপ্তি ৪ মাস পুরোনো’ ।পাশাপাশি কড়া সুরে জানিয়েছেন, ‘মিথ্যা উত্তেজনা সৃষ্টি ও নির্বাচন কমিশনকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা চলছে।’
শনিবার রাত্রিবেলা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘বিজেপির প্রচারযন্ত্র এখন চার মাস পুরনো বিজ্ঞপ্তি সামনে এনে মিথ্যা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন কমিশনকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনা একটি সত্যই প্রকাশ করে, তা হল মিস্টার স্যার-এর কৌশল শুধু ব্যর্থই হয়নি, তা জনসাধারনের সামনে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।’ বাংলায় ২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সব ষড়যন্ত্র আবারও ব্যর্থ হতে চলেছে সে আভাস দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘ওদের হাতে থাকা প্রতিটি অস্ত্র, নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তর, কেন্দ্রীয় বাহিনী, অনুগত সংবাদমাধ্যম এমনকী বিচার বিভাগের কিছু অংশ ব্যবহার করার পরও বিজেপি জানে এই বাংলা তাদের পরাজিত করবে এবং ২০২১ সালের চেয়েও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে ফের ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল।’

সবশেষে গেরুয়া নেতাদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘বিজেপি নেতাদের কাছে আমার সহজ প্রশ্ন, আপনারা কি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস দেখাবেন, না কি বাসি প্রচার ও রাষ্ট্রশক্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকবেন?’
প্রসঙ্গতভাবে, গত শনিবার একটি সংবাদমাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তি সামনে আনে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, বিএলওদের সাম্মানিক ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ইনসেনটিভ ১ হাজার থেকে বেড়ে করা হচ্ছে ২ হাজার টাকা। বিএলও সুপারভাইজারদের সাম্মানিক ১২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৮০০০ টাকা। দাবি করা হয়েছে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাড়ানো হল বিএলওদের। যদিও ওই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিটি গত ২ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছিল।





